সোশ্যাল মিডিয়াসোশ্যাল মিডিয়া

জননী নূরজাহান বেগমের মৃত্যু: উন্নয়নের মুখোশে মানবিকতার পরাজয়?

জননী নূরজাহান বেগমের মৃত্যু: উন্নয়নের মুখোশে মানবিকতার পরাজয়?
প্রতীকী ছবি

দেশজুড়ে আলোচিত জননী নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়; এটি আমাদের সমাজ, আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ এবং তথাকথিত সভ্যতার মুখে এক নির্মম প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

যে মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেন, সেই মা-ই জীবনের শেষ সময়ে যদি অবহেলা, নিঃসঙ্গতা ও অসহায়ত্বের প্রতীক হয়ে ওঠেন, তাহলে আমাদের শিক্ষা, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদার অর্জন কতটা অর্থবহ—সে প্রশ্ন আজ নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে স্থান করে নিচ্ছে ব্যস্ততা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক।

প্রশ্ন উঠেছে—একজন বৃদ্ধা মা কি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তার নয়, সন্তানের সময়, সান্নিধ্য ও মানসিক আশ্রয়েরও দাবিদার নন?

সমাজ পর্যবেক্ষকদের মতে, আজকাল অনেক সন্তান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের প্রতি ভালোবাসার গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও বাস্তবে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার সময় বের করতে পারেন না। ফলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেক মা-বাবা এক ধরনের নীরব নির্বাসনে দিন কাটান।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এটি শুধু একজন মায়ের মৃত্যু নয়; বরং সন্তানদের সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানবিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

যদিও কোনো পরিবারের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বাইরের মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ জানা সম্ভব নয়, তবুও এই মৃত্যু সমাজকে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে—

একজন মা কি তাঁর জীবনের শেষ সময়ে ন্যূনতম যত্ন পাওয়ার অধিকার রাখেন না?

সন্তানদের সাফল্যের পেছনে যাঁর জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ, তাঁর বার্ধক্য কেন অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতায় কাটবে?

প্রযুক্তি ও উন্নয়নের এই যুগে মানুষ কি পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলোর কাছ থেকেই দূরে সরে যাচ্ছে?

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইন হয়তো সব অবহেলার বিচার করতে পারে না; কিন্তু ইতিহাস ও বিবেকের আদালত কখনো নীরব থাকে না।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যু তাই শুধু একটি সংবাদ নয়; এটি আমাদের সময়ের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যে সমাজ মায়ের চোখের জল দেখতে পায় না, সে সমাজের উন্নয়ন যত উঁচুতেই উঠুক, তার মানবিক ভিত্তি ততটাই দুর্বল থেকে যায়।

আজ নূরজাহান বেগম নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আমাদের সামনে রেখে গেছে এক কঠিন বার্তা—সন্তানের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদ-পদবি নয়, সে তার মা-বাবার প্রতি কতটা দায়িত্বশীল।

কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজন কখনো অনাথ মা-বাবারা তৈরি করেননি; তৈরি করেছে ব্যস্ত, সফল কিন্তু দায়িত্বহীন সন্তানেরা।

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জননী নূরজাহান বেগমের মৃত্যু: উন্নয়নের মুখোশে মানবিকতার পরাজয়?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে আলোচিত জননী নূরজাহান বেগমের করুণ মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়; এটি আমাদের সমাজ, আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ এবং তথাকথিত সভ্যতার মুখে এক নির্মম প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

যে মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেন, সেই মা-ই জীবনের শেষ সময়ে যদি অবহেলা, নিঃসঙ্গতা ও অসহায়ত্বের প্রতীক হয়ে ওঠেন, তাহলে আমাদের শিক্ষা, সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদার অর্জন কতটা অর্থবহ—সে প্রশ্ন আজ নতুন করে সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে স্থান করে নিচ্ছে ব্যস্ততা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক।

প্রশ্ন উঠেছে—একজন বৃদ্ধা মা কি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তার নয়, সন্তানের সময়, সান্নিধ্য ও মানসিক আশ্রয়েরও দাবিদার নন?

সমাজ পর্যবেক্ষকদের মতে, আজকাল অনেক সন্তান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের প্রতি ভালোবাসার গল্প লিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও বাস্তবে তাঁদের খোঁজ নেওয়ার সময় বের করতে পারেন না। ফলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেক মা-বাবা এক ধরনের নীরব নির্বাসনে দিন কাটান।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এটি শুধু একজন মায়ের মৃত্যু নয়; বরং সন্তানদের সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানবিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

যদিও কোনো পরিবারের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বাইরের মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ জানা সম্ভব নয়, তবুও এই মৃত্যু সমাজকে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে—

একজন মা কি তাঁর জীবনের শেষ সময়ে ন্যূনতম যত্ন পাওয়ার অধিকার রাখেন না?

সন্তানদের সাফল্যের পেছনে যাঁর জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ, তাঁর বার্ধক্য কেন অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতায় কাটবে?

প্রযুক্তি ও উন্নয়নের এই যুগে মানুষ কি পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষগুলোর কাছ থেকেই দূরে সরে যাচ্ছে?

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইন হয়তো সব অবহেলার বিচার করতে পারে না; কিন্তু ইতিহাস ও বিবেকের আদালত কখনো নীরব থাকে না।

নূরজাহান বেগমের মৃত্যু তাই শুধু একটি সংবাদ নয়; এটি আমাদের সময়ের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যে সমাজ মায়ের চোখের জল দেখতে পায় না, সে সমাজের উন্নয়ন যত উঁচুতেই উঠুক, তার মানবিক ভিত্তি ততটাই দুর্বল থেকে যায়।

আজ নূরজাহান বেগম নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যু আমাদের সামনে রেখে গেছে এক কঠিন বার্তা—সন্তানের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার পদ-পদবি নয়, সে তার মা-বাবার প্রতি কতটা দায়িত্বশীল।

কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে বৃদ্ধাশ্রমের প্রয়োজন কখনো অনাথ মা-বাবারা তৈরি করেননি; তৈরি করেছে ব্যস্ত, সফল কিন্তু দায়িত্বহীন সন্তানেরা।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত