পরীক্ষাপরীক্ষা

ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথমদিনে ৪০% অনুপস্থিত

ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথমদিনে ৪০% অনুপস্থিত
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথমদিনে প্রায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা উপজেলার দুটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ১,০২৪ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এর মধ্যে প্রথমদিনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬২৫ জন। ফলে অনুপস্থিত থাকে ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশ।

কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিশেশ্বরী স্কুল কেন্দ্রে ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮১ জন অংশগ্রহণ করে এবং ১৯৫ জন অনুপস্থিত থাকে। অপরদিকে চরনিখলা স্কুল কেন্দ্রে ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত থাকে ২০৩ জন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক কারণ মিলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে না পারায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য আলাদা প্রস্তুতির সুযোগ সীমিত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়।

অভিভাবকদের একাংশের মধ্যেও এ পরীক্ষাকে ঘিরে তেমন আগ্রহ নেই। পাস-ফেল নির্ভর না হওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া যাতায়াত সমস্যাও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব ও অতিরিক্ত খরচ অনেক পরিবারকে নিরুৎসাহিত করে।

স্থানীয়ভাবে আরও জানা যায়, মৌসুমি পারিবারিক কাজ, অসুস্থতা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দেওয়ার প্রবণতাও অনুপস্থিতির হার বাড়িয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের প্রস্তুত মনে না করায় স্বেচ্ছায় পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি কর্মসূচি গ্রহণ, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও এমন উচ্চ অনুপস্থিতির হার অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঈশ্বরগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথমদিনে ৪০% অনুপস্থিত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথমদিনে প্রায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা উপজেলার দুটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ১,০২৪ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এর মধ্যে প্রথমদিনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬২৫ জন। ফলে অনুপস্থিত থাকে ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশ।

কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিশেশ্বরী স্কুল কেন্দ্রে ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮১ জন অংশগ্রহণ করে এবং ১৯৫ জন অনুপস্থিত থাকে। অপরদিকে চরনিখলা স্কুল কেন্দ্রে ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত থাকে ২০৩ জন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক কারণ মিলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে না পারায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য আলাদা প্রস্তুতির সুযোগ সীমিত থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়।

অভিভাবকদের একাংশের মধ্যেও এ পরীক্ষাকে ঘিরে তেমন আগ্রহ নেই। পাস-ফেল নির্ভর না হওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলছে।

এছাড়া যাতায়াত সমস্যাও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব ও অতিরিক্ত খরচ অনেক পরিবারকে নিরুৎসাহিত করে।

স্থানীয়ভাবে আরও জানা যায়, মৌসুমি পারিবারিক কাজ, অসুস্থতা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দেওয়ার প্রবণতাও অনুপস্থিতির হার বাড়িয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের প্রস্তুত মনে না করায় স্বেচ্ছায় পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি কর্মসূচি গ্রহণ, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও এমন উচ্চ অনুপস্থিতির হার অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত