পাঠকের কথা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ‘ঈশ্বরগঞ্জ সরকারিকৃত ডিগ্রি কলেজ’ মাঠে ঈদ-পরবর্তী এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দেখা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উপস্থিতদের অধিকাংশই ছিলেন জেন-জি প্রজন্ম ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, যা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সভায় ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে তরুণরা নির্দ্বিধায় তাদের এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। জবাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। সবার লক্ষ্য একটাই—একটি আলোকিত, সুশাসিত ঈশ্বরগঞ্জ গড়ে তোলা।
আলোচনায় উঠে আসে, দেশের অপরাধপ্রবণ ও সামাজিক অবক্ষয়ে ভোগা উপজেলাগুলোর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জও একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাদক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরিষা ইউনিয়নের শিশু মরিয়ম হত্যার ঘটনাটি আলোচনায় আসে, যা উপস্থিতদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
মাদক বিস্তার রোধে গৌরীপুর সার্কেলের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরও জানান, মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা জানান, সামাজিক অবক্ষয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া বড় একটি কারণ হিসেবে কাজ করছে। তরুণদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইনের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
তরুণদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ থেকে শুরু করে জমি দখল, বাজার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি—সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়ছেন এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, “অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না—সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সুরে বিএনপির স্থানীয় সদস্য-সচিবও বলেন, “দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না।”
একাধিক তরুণ বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক অপরাধী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে ভয় কমে যাচ্ছে এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে।” তারা আরও দাবি করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান না থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাব দুর্নীতি ও অপরাধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। তারা দ্রুত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অপরাধ দমনে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, তরুণদের সঠিক পথে রাখতে বিকল্প ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি।
তরুণ সমাজের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ‘ঈশ্বরগঞ্জ সরকারিকৃত ডিগ্রি কলেজ’ মাঠে ঈদ-পরবর্তী এক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরেজমিনে উপস্থিত থেকে দেখা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উপস্থিতদের অধিকাংশই ছিলেন জেন-জি প্রজন্ম ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, যা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
সভায় ছিল উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, যেখানে তরুণরা নির্দ্বিধায় তাদের এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরেন। জবাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। সবার লক্ষ্য একটাই—একটি আলোকিত, সুশাসিত ঈশ্বরগঞ্জ গড়ে তোলা।
আলোচনায় উঠে আসে, দেশের অপরাধপ্রবণ ও সামাজিক অবক্ষয়ে ভোগা উপজেলাগুলোর মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জও একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাদক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরিষা ইউনিয়নের শিশু মরিয়ম হত্যার ঘটনাটি আলোচনায় আসে, যা উপস্থিতদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
মাদক বিস্তার রোধে গৌরীপুর সার্কেলের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরও জানান, মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত করে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা জানান, সামাজিক অবক্ষয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া বড় একটি কারণ হিসেবে কাজ করছে। তরুণদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইনের ঊর্ধ্বে থেকে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
তরুণদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ থেকে শুরু করে জমি দখল, বাজার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি—সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়ছেন এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, “অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না—সে যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সুরে বিএনপির স্থানীয় সদস্য-সচিবও বলেন, “দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না।”
একাধিক তরুণ বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক অপরাধী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে ভয় কমে যাচ্ছে এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে।” তারা আরও দাবি করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থান না থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রাজনৈতিক প্রভাব দুর্নীতি ও অপরাধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। তারা দ্রুত এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অপরাধ দমনে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, তরুণদের সঠিক পথে রাখতে বিকল্প ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি।
তরুণ সমাজের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।
