মতামতমতামত

শিক্ষাখাতে গভীর মনোযোগ দিতে হবে তারেক রহমানের সরকারকে

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা

লেখা:
লেখা: আব্দুল্লাহ আল নাঈম
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতার পেরিয়ে একটি স্থিতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির পথে হাঁটতে চায়। কিন্তু অবকাঠামো, সড়ক বা বড়ো প্রকল্প একাই সেই স্বপ্ন পূরণ করবে না।

টেকসই উন্নয়নের মূল শক্তি মানবসম্পদ, আর মানবসম্পদ গঠনের কেন্দ্র শিক্ষা। তাই এখন শিক্ষাকে নীতিগত ও বাজেটগত অগ্রাধিকারের শীর্ষে তোলার সময়। দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কিন্তু শেখার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ আছে। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত শ্রেণি শেষ করেও ভাষা ও গণিতে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। শিক্ষকসংকট, মানসম্মত প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব এই অবস্থার পেছনে বড়ো কারণ। শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়ের মধ্যে অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে বৈষম্যও স্পষ্ট।

উচ্চশিক্ষা খাতে আরেকটি জটিলতা হলো গুণগত মান ও গবেষণা সক্ষমতা। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়লেও গবেষণায় বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা, গবেষণা প্রকাশনায় সীমিত উপস্থিতি এবং শিল্পখাতের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ- এসব বাস্তবতা নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলার মতো। পাশাপাশি আবাসন সংকট, সেশনজট ও রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শিক্ষিত বেকারত্ব এখন বড়ো রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেক তরুণ চাকরি পাচ্ছে না, কারণ পাঠ্যক্রম ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, আইটি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি। শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থানের পথও প্রশস্ত হবে।

জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনও সীমিত। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা তহবিল, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কোভিড পরবর্তী অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রযুক্তিগত সুবিধায় বৈষম্য থাকলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। তাই ডিজিটাল বিভাজন কমানোও জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষা শুধু অর্থনৈতিক উপার্জনের উপকরণ নয়, এটি সচেতন নাগরিক তৈরির ভিত্তি। নৈতিকতা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্যে সরকার যদি আন্তরিক হয়, তবে শিক্ষাকে ব্যয়ের খাত নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয় : শিক্ষার্থী বাংলাদেশ শিক্ষাব্যবস্থা

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিক্ষাখাতে গভীর মনোযোগ দিতে হবে তারেক রহমানের সরকারকে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতার পেরিয়ে একটি স্থিতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির পথে হাঁটতে চায়। কিন্তু অবকাঠামো, সড়ক বা বড়ো প্রকল্প একাই সেই স্বপ্ন পূরণ করবে না।

টেকসই উন্নয়নের মূল শক্তি মানবসম্পদ, আর মানবসম্পদ গঠনের কেন্দ্র শিক্ষা। তাই এখন শিক্ষাকে নীতিগত ও বাজেটগত অগ্রাধিকারের শীর্ষে তোলার সময়। দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কিন্তু শেখার ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ আছে। বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত শ্রেণি শেষ করেও ভাষা ও গণিতে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। শিক্ষকসংকট, মানসম্মত প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব এই অবস্থার পেছনে বড়ো কারণ। শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়ের মধ্যে অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে বৈষম্যও স্পষ্ট।

উচ্চশিক্ষা খাতে আরেকটি জটিলতা হলো গুণগত মান ও গবেষণা সক্ষমতা। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীসংখ্যা বাড়লেও গবেষণায় বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা, গবেষণা প্রকাশনায় সীমিত উপস্থিতি এবং শিল্পখাতের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ- এসব বাস্তবতা নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলার মতো। পাশাপাশি আবাসন সংকট, সেশনজট ও রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শিক্ষিত বেকারত্ব এখন বড়ো রাষ্ট্রীয় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জনের পরও অনেক তরুণ চাকরি পাচ্ছে না, কারণ পাঠ্যক্রম ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার, আইটি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো জরুরি। শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থানের পথও প্রশস্ত হবে।

জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনও সীমিত। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা তহবিল, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কোভিড পরবর্তী অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রযুক্তিগত সুবিধায় বৈষম্য থাকলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। তাই ডিজিটাল বিভাজন কমানোও জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষা শুধু অর্থনৈতিক উপার্জনের উপকরণ নয়, এটি সচেতন নাগরিক তৈরির ভিত্তি। নৈতিকতা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্যে সরকার যদি আন্তরিক হয়, তবে শিক্ষাকে ব্যয়ের খাত নয়, বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। কারণ শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ।

লেখক: শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত