ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাজশাহী-১ আসনে পুনর্গণনার আবেদন বিএনপির প্রার্থীর: ফলাফল নিয়ে অভিযোগ

রিপন আলী
রিপন আলী নিজস্ব প্রতিবেদক
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-
রাজশাহী-১ আসনে পুনর্গণনার আবেদন বিএনপির প্রার্থীর: ফলাফল নিয়ে অভিযোগ
জনগণের ভোটের আমানত রক্ষায় আমরা আপিল করেছি"— রাজশাহী-১ আসনের ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন বিএনপি প্রার্থী শরীফ উদ্দীন।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দীন। ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলে অসঙ্গতি থাকায় তিনি ইতিমধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) বরাবর ভোট পুনর্গণনার আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন।

​গত শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই আইনি পদক্ষেপের কথা জনসম্মুখে আনেন।

​ভোটের ব্যবধান ও বাতিল ভোট নিয়ে সংশয়

​শরীফ উদ্দীন জানান, সাধারণ ভোটের হিসেবে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে তাঁর ব্যবধান ছিল মাত্র ৭০০-এর মতো। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে ব্যবধান দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৮৮৪। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বাতিল হওয়া ৭ হাজার ৯৮৬টি ভোট নিয়ে। বিএনপি প্রার্থীর দাবি, মোট ভোটের ২.২৬ শতাংশই বাতিল হওয়াটা অস্বাভাবিক। তিনি বলেন:

​"আমরা মনে করি বাতিল হওয়া ভোটগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা দরকার। জনগণের প্রতিটি মূল্যবান ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এই কারণেই পুনর্গণনার আবেদন করেছি।"

​পোলিং এজেন্টের সই ছাড়াই ফলাফল ঘোষণা

​আবেদনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। শরীফ উদ্দীনের দাবি, বেশ কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের সই ছাড়াই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কেন্দ্রগুলোর ফল পুনরায় পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

​নির্বাচনী সমীকরণ ও ফলাফল

​ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে:

  • বিজয়ী: মো. মুজিবুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী) - ১,৭১,৭৮৬ ভোট।
  • নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: মো. শরীফ উদ্দীন (বিএনপি) - ১,৬৯,৯০২ ভোট।
  • ভোটের ব্যবধান: ১,৮৮৪ ভোট।
  • মোট সংগৃহীত ভোট: ৩,৫১,৮৪৪টি।

​"সত্য কখনো হার মানে না"

​আইনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে শরীফ উদ্দীন তাঁর সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও দালিলিক ভিত্তি নিয়েই তিনি এই আবেদন করেছেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে ভোটের প্রকৃত চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

​রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই স্পর্শকাতর আসনে পুনর্গণনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজশাহী-১ আসনে পুনর্গণনার আবেদন বিএনপির প্রার্থীর: ফলাফল নিয়ে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দীন। ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলে অসঙ্গতি থাকায় তিনি ইতিমধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) বরাবর ভোট পুনর্গণনার আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন।

​গত শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি এই আইনি পদক্ষেপের কথা জনসম্মুখে আনেন।

​ভোটের ব্যবধান ও বাতিল ভোট নিয়ে সংশয়

​শরীফ উদ্দীন জানান, সাধারণ ভোটের হিসেবে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে তাঁর ব্যবধান ছিল মাত্র ৭০০-এর মতো। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে ব্যবধান দেখানো হয়েছে ১ হাজার ৮৮৪। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বাতিল হওয়া ৭ হাজার ৯৮৬টি ভোট নিয়ে। বিএনপি প্রার্থীর দাবি, মোট ভোটের ২.২৬ শতাংশই বাতিল হওয়াটা অস্বাভাবিক। তিনি বলেন:

​"আমরা মনে করি বাতিল হওয়া ভোটগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা দরকার। জনগণের প্রতিটি মূল্যবান ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এই কারণেই পুনর্গণনার আবেদন করেছি।"


​পোলিং এজেন্টের সই ছাড়াই ফলাফল ঘোষণা

​আবেদনে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। শরীফ উদ্দীনের দাবি, বেশ কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের সই ছাড়াই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কেন্দ্রগুলোর ফল পুনরায় পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

​নির্বাচনী সমীকরণ ও ফলাফল

​ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে:

  • বিজয়ী: মো. মুজিবুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী) - ১,৭১,৭৮৬ ভোট।
  • নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: মো. শরীফ উদ্দীন (বিএনপি) - ১,৬৯,৯০২ ভোট।
  • ভোটের ব্যবধান: ১,৮৮৪ ভোট।
  • মোট সংগৃহীত ভোট: ৩,৫১,৮৪৪টি।

​"সত্য কখনো হার মানে না"

​আইনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে শরীফ উদ্দীন তাঁর সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও দালিলিক ভিত্তি নিয়েই তিনি এই আবেদন করেছেন। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে ভোটের প্রকৃত চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

​রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই স্পর্শকাতর আসনে পুনর্গণনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত