অপরাধ
রাজশাহীতে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামক একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসার কথা বলে ভাড়া নিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করে মালিককে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সংগঠনটির নেতাদের বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু সশরীরে উপস্থিত হয়ে ওই কথিত কার্যালয়টি উচ্ছেদ করেন।
বাড়ির মালিক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আইনজীবী আকরামুল ইসলাম জানান, গত বছরের অক্টোবরে সরকার জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর চারতলা ভবনের দোতলায় ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার সময় জানানো হয়েছিল সেখানে ডেভেলপার ব্যবসার অফিস করা হবে। কিন্তু ওঠার কিছুদিন পরেই বাড়ির সামনে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’-এর জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
বাড়ির মালিকের ছেলে সায়েমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে তারা কোনো ভাড়া বা বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল দিচ্ছিল না। বাড়ি ছাড়ার জন্য গত ১৪ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো বাড়িতে শতাধিক মানুষ নিয়ে শোডাউন করা এবং বাড়ির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নিরুপায় হয়ে সায়েমুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ফেসবুক পোস্টটি নজরে আসার পর আজ বেলা ২টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি নিজ হাতে বাড়ির সামনে থাকা ব্যানার ও সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন। মিনুর উপস্থিতিতে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা যুবকেরা পেছনের দরজা দিয়ে সটকে পড়ে। পরে মিনু কার্যালয়টিতে তালা লাগিয়ে চাবি নিজের জিম্মায় নেন এবং বাড়িওয়ালাকে নির্ভয়ে থাকার আশ্বাস দেন।
মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের বলেন:
"বিএনপির এই নামে কোনো সহযোগী সংগঠন নেই। এটি একটি ভুঁইফোড় এবং প্রতারক চক্র। তারা দলের নাম ব্যবহার করে মানুষের বাড়ি দখল করবে—এটি হতে দেওয়া যায় না। আমি নিজে এসে ভুয়া সাইনবোর্ড নামিয়ে দিয়েছি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
অভিযুক্ত সংগঠনটির সভাপতি সরকার জিয়াউর রহমান নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা দাবি করে বলেন, "বিএনপির অনেক সহযোগী সংগঠন আছে, অনেকে হয়তো আমাদেরটা চেনে না। আমরা বাড়ি দখলের চেষ্টা করিনি, শুধু নতুন অফিস খোঁজার জন্য সময় চেয়েছিলাম।"
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও বাড়ির মালিক আকরামুল ইসলাম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "মিনু ভাই না এলে আমি হয়তো আমার পৈতৃক ভিটা আর ফিরে পেতাম না

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীতে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামক একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসার কথা বলে ভাড়া নিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ না করে মালিককে উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সংগঠনটির নেতাদের বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু সশরীরে উপস্থিত হয়ে ওই কথিত কার্যালয়টি উচ্ছেদ করেন।
বাড়ির মালিক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি আইনজীবী আকরামুল ইসলাম জানান, গত বছরের অক্টোবরে সরকার জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর চারতলা ভবনের দোতলায় ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। ভাড়া নেওয়ার সময় জানানো হয়েছিল সেখানে ডেভেলপার ব্যবসার অফিস করা হবে। কিন্তু ওঠার কিছুদিন পরেই বাড়ির সামনে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি-বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’-এর জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
বাড়ির মালিকের ছেলে সায়েমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরে তারা কোনো ভাড়া বা বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল দিচ্ছিল না। বাড়ি ছাড়ার জন্য গত ১৪ ডিসেম্বর লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো বাড়িতে শতাধিক মানুষ নিয়ে শোডাউন করা এবং বাড়ির মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। নিরুপায় হয়ে সায়েমুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ফেসবুক পোস্টটি নজরে আসার পর আজ বেলা ২টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি নিজ হাতে বাড়ির সামনে থাকা ব্যানার ও সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন। মিনুর উপস্থিতিতে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা যুবকেরা পেছনের দরজা দিয়ে সটকে পড়ে। পরে মিনু কার্যালয়টিতে তালা লাগিয়ে চাবি নিজের জিম্মায় নেন এবং বাড়িওয়ালাকে নির্ভয়ে থাকার আশ্বাস দেন।
মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের বলেন:
"বিএনপির এই নামে কোনো সহযোগী সংগঠন নেই। এটি একটি ভুঁইফোড় এবং প্রতারক চক্র। তারা দলের নাম ব্যবহার করে মানুষের বাড়ি দখল করবে—এটি হতে দেওয়া যায় না। আমি নিজে এসে ভুয়া সাইনবোর্ড নামিয়ে দিয়েছি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
অভিযুক্ত সংগঠনটির সভাপতি সরকার জিয়াউর রহমান নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা দাবি করে বলেন, "বিএনপির অনেক সহযোগী সংগঠন আছে, অনেকে হয়তো আমাদেরটা চেনে না। আমরা বাড়ি দখলের চেষ্টা করিনি, শুধু নতুন অফিস খোঁজার জন্য সময় চেয়েছিলাম।"
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও বাড়ির মালিক আকরামুল ইসলাম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "মিনু ভাই না এলে আমি হয়তো আমার পৈতৃক ভিটা আর ফিরে পেতাম না
