ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

নিয়োগ জালিয়াতি কাণ্ডে বেরোবিতে দুদকের অভিযান

শেয়ার করুন
অ+ অ-
নিয়োগ জালিয়াতি কাণ্ডে বেরোবিতে দুদকের অভিযান
নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসন্ধানে এসে রবিবার রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে বৈঠক করেন দুদকের কর্মকর্তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও সনদপত্র জালিয়াতি কাণ্ডকে ঘিরে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি)। এরই সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের দুদকের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের শুরুতে দুদকের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠক করেন রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদের সঙ্গেও।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ একাধিক দপ্তরে অভিযান চালান দুদকের কর্মকর্তারা। এ সময় নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েকটি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করতেই কমিশনের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

❝এ বিষয়ে রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুদকের উপপরিচালক শাওন মিয়া বলেন, জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এই অভিযান। এতে জব্দ করা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান শাওন।❞

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগে অনিয়ম এবং সনদপত্র জালিয়াতির তথ্য সামনে আসায় দুদক এই অভিযান চালিয়েছে। তাঁরাই প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সনদপত্র জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় কিছু গণমাধ্যমে। এদের মধ্যে স্নাতকোত্তরের সনদ জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ১১৪তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোছা. ইরিনা নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মো. ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ), ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পলাতক গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমানের স্ত্রী ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. আইরিন আক্তারের নিয়োগ জালিয়াতি নিয়েও ২০২৪ সালে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। তাদের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান চলমান থাকলেও, রবিবার তা নিয়ে অভিযান চালায়নি দুদক।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


নিয়োগ জালিয়াতি কাণ্ডে বেরোবিতে দুদকের অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও সনদপত্র জালিয়াতি কাণ্ডকে ঘিরে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি)। এরই সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুরের দুদকের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের শুরুতে দুদকের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠক করেন রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদের সঙ্গেও।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ একাধিক দপ্তরে অভিযান চালান দুদকের কর্মকর্তারা। এ সময় নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া কয়েকটি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করতেই কমিশনের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

❝এ বিষয়ে রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুদকের উপপরিচালক শাওন মিয়া বলেন, জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এই অভিযান। এতে জব্দ করা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান শাওন।❞

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগে অনিয়ম এবং সনদপত্র জালিয়াতির তথ্য সামনে আসায় দুদক এই অভিযান চালিয়েছে। তাঁরাই প্রেস ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সনদপত্র জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় কিছু গণমাধ্যমে। এদের মধ্যে স্নাতকোত্তরের সনদ জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ১১৪তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোছা. ইরিনা নাহারকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সালেহ মো. ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ), ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পলাতক গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমানের স্ত্রী ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. আইরিন আক্তারের নিয়োগ জালিয়াতি নিয়েও ২০২৪ সালে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। তাদের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান চলমান থাকলেও, রবিবার তা নিয়ে অভিযান চালায়নি দুদক।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত