ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল তোরণ

শীতের সকাল মানে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো প্রকৃতি। সেই প্রকৃতির হিমেল হাওয়া যেন প্রতিদিনই শীতের আগমনি শুভেচ্ছা জানিয়ে কড়া নাড়ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে ঘেরা সবুজের এই ক্যাম্পাসে অর্ধরাত পেরিয়ে ভোর হতে থাকলে সেই সঙ্গে তাপমাত্রাও কমতে শুরু করে। গতকাল শনিবার ভোর থেকে কুয়াশামাখা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এসব ঋতু বদলের বর্ণনা উঠে এসেছে নিচের লেখনিতে।

বাংলাদেশে সাধারণত শীতকাল শুরু হয় প্রায় পৌষ ও মাঘ মাসে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে। কিন্তু এই পাহাড়-ঝরনা আর সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেন এই নিয়ম চলে না। দেশের অন্য জায়গায় ঋতু বদলের আগেই বদলাতে শুরু করে এই ক্যামপাসের প্রকৃতি, জানায় শীতের আগমনি শুভেচ্ছা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট, কাটা পাহাড়, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, শহিদ মিনার, লেডিস ঝুপড়ি, দক্ষিণ ক্যামপাসের পুরো এরিয়া, ডাকঘর পেরিয়ে গ্রন্থাগার, চাকসু ভবন থেকে বিজ্ঞান অনুষদ, আর ক্যামপাসের উত্তরের দিকের শাহ জালাল, আমানত, এএফ রহমান, আলাওল ও সোহরাওয়ার্দী হলসহ সারা ক্যাম্পাস তীব্র কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। 

বিভিন্ন স্থান কুয়াশায় আচ্ছন্ন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হল থেকে অন্য হল ও অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে অন্য ভবন ভালো দেখা যাচ্ছে না। গাছের পাতায় ও ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশির, বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নামে টি-শার্ট, লোগো ও নামসংবলিত পোশাক বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পৌষের আগেই ক্যাম্পাসে হিমালয় থেকে আসা শৈত্যপ্রবাহের ছোঁয়া পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী কারিশমা ইরিন বলেন, প্রকৃতির রানীখ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই ঋতুরাজ ধরা দেয় নানা রূপে। তবে এখানকার শীতের আগমন একটু অন্যরকম। ছাতিমের মন মাতানো গন্ধ, কুয়াশা ঘেরা কাটা পাহাড়, ভোরে পাখিদের কিচির-মিচির, সাথে শিউলি ঝরা সুন্দর সকাল সব মিলিয়ে এক মায়াময় পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠে আরো শান্ত, আরো সুন্দর।

কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ক্যামপাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালে বা ভোরে হাঁটতে বের হলে তুলনামূলক বেশ শীতল পরিবেশ অনুভব করেন জান্নাতুল আদন নুসরাত। তিনি এবারের চাকসুর নির্বাচিত সহ-দপ্তর সম্পাদক। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সকালগুলো বেশ ঠান্ডা লাগছে। ভোরে হাঁটতে বের হলে মনে হয় শীত এসে গেছে আগেভাগেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাহাড়ে ঘেরা এলাকায় তাপমাত্রা একটু নামলেই সেটা তীব্রভাবে টের পাওয়া যায়।

চাকসু ভবনের পাশে অবস্থিত কলা ঝুপড়ি। ক্যামপাসের অনেক আবেগ আর স্মৃতির জায়গা এটি। কত গান-আড্ডায় মুখর হয়ে থাকে এই এরিয়া। গতকাল ভোরে সব যখন ঘুমন্ত, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরার জুমচাষি ভাইয়েরা পাহাড়ি সবজি নিয়ে ঝুপড়িতে জড়ো করছিল। শীতের টাটকা সবজি দেখতেও বেশ ভালো লাগে।

গতকাল সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের নিরাপত্তাকর্মী শাহিন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, সারারাত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, এর আগের দিনেও তেমন কোনো ঠান্ডা অনুভূত হয়নি তার, যা আজকে লাগছে। রাতে পুরো হলপাড়া কুয়াশায় ছেয়ে গিয়েছিল, বলেন শাহিন।

পাখির কলরবে মুখর ক্যাম্পাস:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন পাখির কলরবে মুখর। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বনভূমি ঘেরা এই ক্যাম্পাস জেগে ওঠে নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ডাকে। একদিকে শিক্ষার্থীদের হাঁটাচলা, অন্যদিকে প্রাকৃতিক শব্দের মেলবন্ধনে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন, শহিদ মিনার চত্বর ও রেলস্টেশন এলাকার গাছগাছালিতে প্রতিদিনই দেখা যায় বুলবুলি, দোয়েল, শালিক ও টিয়া পাখির আনাগোনা।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পাখিরাও ধীরে ধীরে ভিড় জমাচ্ছে চবি ক্যাম্পাসে। প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই ক্যাম্পাস যেন এক জীবন্ত পাঠশালা। যেখানে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠে নয়, প্রকৃতির কাছ থেকেও শেখে সহাবস্থানের পাঠ।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

শীতের সকাল মানে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো প্রকৃতি। সেই প্রকৃতির হিমেল হাওয়া যেন প্রতিদিনই শীতের আগমনি শুভেচ্ছা জানিয়ে কড়া নাড়ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে ঘেরা সবুজের এই ক্যাম্পাসে অর্ধরাত পেরিয়ে ভোর হতে থাকলে সেই সঙ্গে তাপমাত্রাও কমতে শুরু করে। গতকাল শনিবার ভোর থেকে কুয়াশামাখা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এসব ঋতু বদলের বর্ণনা উঠে এসেছে নিচের লেখনিতে।

বাংলাদেশে সাধারণত শীতকাল শুরু হয় প্রায় পৌষ ও মাঘ মাসে, অর্থাৎ ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে। কিন্তু এই পাহাড়-ঝরনা আর সবুজে ঘেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেন এই নিয়ম চলে না। দেশের অন্য জায়গায় ঋতু বদলের আগেই বদলাতে শুরু করে এই ক্যামপাসের প্রকৃতি, জানায় শীতের আগমনি শুভেচ্ছা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট, কাটা পাহাড়, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, শহিদ মিনার, লেডিস ঝুপড়ি, দক্ষিণ ক্যামপাসের পুরো এরিয়া, ডাকঘর পেরিয়ে গ্রন্থাগার, চাকসু ভবন থেকে বিজ্ঞান অনুষদ, আর ক্যামপাসের উত্তরের দিকের শাহ জালাল, আমানত, এএফ রহমান, আলাওল ও সোহরাওয়ার্দী হলসহ সারা ক্যাম্পাস তীব্র কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে। 

বিভিন্ন স্থান কুয়াশায় আচ্ছন্ন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হল থেকে অন্য হল ও অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে অন্য ভবন ভালো দেখা যাচ্ছে না। গাছের পাতায় ও ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশির, বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ। শীতকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নামে টি-শার্ট, লোগো ও নামসংবলিত পোশাক বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পৌষের আগেই ক্যাম্পাসে হিমালয় থেকে আসা শৈত্যপ্রবাহের ছোঁয়া পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী কারিশমা ইরিন বলেন, প্রকৃতির রানীখ্যাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরই ঋতুরাজ ধরা দেয় নানা রূপে। তবে এখানকার শীতের আগমন একটু অন্যরকম। ছাতিমের মন মাতানো গন্ধ, কুয়াশা ঘেরা কাটা পাহাড়, ভোরে পাখিদের কিচির-মিচির, সাথে শিউলি ঝরা সুন্দর সকাল সব মিলিয়ে এক মায়াময় পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠে আরো শান্ত, আরো সুন্দর।

কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ক্যামপাসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকালে বা ভোরে হাঁটতে বের হলে তুলনামূলক বেশ শীতল পরিবেশ অনুভব করেন জান্নাতুল আদন নুসরাত। তিনি এবারের চাকসুর নির্বাচিত সহ-দপ্তর সম্পাদক। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সকালগুলো বেশ ঠান্ডা লাগছে। ভোরে হাঁটতে বের হলে মনে হয় শীত এসে গেছে আগেভাগেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাহাড়ে ঘেরা এলাকায় তাপমাত্রা একটু নামলেই সেটা তীব্রভাবে টের পাওয়া যায়।

চাকসু ভবনের পাশে অবস্থিত কলা ঝুপড়ি। ক্যামপাসের অনেক আবেগ আর স্মৃতির জায়গা এটি। কত গান-আড্ডায় মুখর হয়ে থাকে এই এরিয়া। গতকাল ভোরে সব যখন ঘুমন্ত, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরার জুমচাষি ভাইয়েরা পাহাড়ি সবজি নিয়ে ঝুপড়িতে জড়ো করছিল। শীতের টাটকা সবজি দেখতেও বেশ ভালো লাগে।

গতকাল সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের নিরাপত্তাকর্মী শাহিন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, সারারাত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, এর আগের দিনেও তেমন কোনো ঠান্ডা অনুভূত হয়নি তার, যা আজকে লাগছে। রাতে পুরো হলপাড়া কুয়াশায় ছেয়ে গিয়েছিল, বলেন শাহিন।

পাখির কলরবে মুখর ক্যাম্পাস:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন পাখির কলরবে মুখর। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বনভূমি ঘেরা এই ক্যাম্পাস জেগে ওঠে নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ডাকে। একদিকে শিক্ষার্থীদের হাঁটাচলা, অন্যদিকে প্রাকৃতিক শব্দের মেলবন্ধনে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন, শহিদ মিনার চত্বর ও রেলস্টেশন এলাকার গাছগাছালিতে প্রতিদিনই দেখা যায় বুলবুলি, দোয়েল, শালিক ও টিয়া পাখির আনাগোনা।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পাখিরাও ধীরে ধীরে ভিড় জমাচ্ছে চবি ক্যাম্পাসে। প্রকৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই ক্যাম্পাস যেন এক জীবন্ত পাঠশালা। যেখানে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠে নয়, প্রকৃতির কাছ থেকেও শেখে সহাবস্থানের পাঠ।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত