ক্যাম্পাস
এতদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অকথ্যভাষায় সাইবার বুলিং ও গালিগালাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার প্রকাশ্যে ধর্ষণ করে হত্যা ও মেরে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দিচ্ছে সরকারি নথিভুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এবং তাদের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ধর্ষণের পর জীবননাশের হুমকিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছেন ভুক্তভোগী চাকসু প্রতিনিধিরা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটকে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নারী নেত্রীদের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে তাদের ব্যক্তিগত ছবিকে অদর্শন করে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ‘মবস্টার’, ‘সন্ত্রাসী’, ‘শিবিরের মাগি’ সহ চরম অশ্লীল, নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও ঘৃণামূলক ভাষায় প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বলছেন, বিষয়টি শুধু মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর অপরিচিত মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে অব্যাহতভাবে অকথ্যভাষায় হুমকি দিয়ে চাকসুর সহ-দপ্তর সম্পাদককে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। বলা হয়— ‘(নাম) দাসী মেসেজ এ না, পাবলিকই বল্লাম সাবধানে থাইকো। তোমার আশেপাশে যাদের নিয়ে চলো তাদের সালাম-দোয়া নিয়ে চইলো। বলা তো যায় না, কখন গুটিখোর হাদির মতো তুমিও তার কাছে চলে যাও। যাই হোক আগামী এক সপ্তাহের ভিতরেই দেখা হচ্ছে আমাদের। ধন্যবাদ’।
ওসমান হাদির মতো হত্যার ভয়ংকর সব হুমকি পাওয়ার পর উদ্বেগে আছেন তিনি। চাকসুর ওই সহ-দপ্তর সম্পাদক বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। সম্প্রতি ছাত্রলীগ আমাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করেছে। আমার ব্যক্তিগত নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া, পরিবারকে হুমকি দেওয়া, ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া ছবি ও ভিডিয়ো ব্যবহার করে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও ট্রল চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
একইভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চাকসুর অন্য সম্পাদকেরা। তাদের মধ্যে— সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক। তাদেরকে বিভিন্ন ভয় ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। আবার মেরে তাদেরকে ঝুলিয়ে রাখা হবে বলেও খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ করে বলেন, চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক এবং পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদকের অদর্শনীয় ছবি তৈরি করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেন, চাকসুর নারী নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ কেবল নারী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গণের সুস্থ-সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।
আজ বিকেলে চাকসুর নারী প্রতিনিধিদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী ফোন রিসিভ করেননি। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় তার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতারকে মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
এতদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের অকথ্যভাষায় সাইবার বুলিং ও গালিগালাজে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার প্রকাশ্যে ধর্ষণ করে হত্যা ও মেরে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দিচ্ছে সরকারি নথিভুক্ত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এবং তাদের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ধর্ষণের পর জীবননাশের হুমকিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছেন ভুক্তভোগী চাকসু প্রতিনিধিরা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভকে আটকে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নারী নেত্রীদের বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে তাদের ব্যক্তিগত ছবিকে অদর্শন করে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ‘মবস্টার’, ‘সন্ত্রাসী’, ‘শিবিরের মাগি’ সহ চরম অশ্লীল, নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও ঘৃণামূলক ভাষায় প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বলছেন, বিষয়টি শুধু মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর অপরিচিত মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে অব্যাহতভাবে অকথ্যভাষায় হুমকি দিয়ে চাকসুর সহ-দপ্তর সম্পাদককে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। বলা হয়— ‘(নাম) দাসী মেসেজ এ না, পাবলিকই বল্লাম সাবধানে থাইকো। তোমার আশেপাশে যাদের নিয়ে চলো তাদের সালাম-দোয়া নিয়ে চইলো। বলা তো যায় না, কখন গুটিখোর হাদির মতো তুমিও তার কাছে চলে যাও। যাই হোক আগামী এক সপ্তাহের ভিতরেই দেখা হচ্ছে আমাদের। ধন্যবাদ’।
ওসমান হাদির মতো হত্যার ভয়ংকর সব হুমকি পাওয়ার পর উদ্বেগে আছেন তিনি। চাকসুর ওই সহ-দপ্তর সম্পাদক বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। সম্প্রতি ছাত্রলীগ আমাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করেছে। আমার ব্যক্তিগত নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া, পরিবারকে হুমকি দেওয়া, ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভুয়া ছবি ও ভিডিয়ো ব্যবহার করে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও ট্রল চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
একইভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চাকসুর অন্য সম্পাদকেরা। তাদের মধ্যে— সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক। তাদেরকে বিভিন্ন ভয় ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। আবার মেরে তাদেরকে ঝুলিয়ে রাখা হবে বলেও খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ করে বলেন, চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক এবং পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদকের অদর্শনীয় ছবি তৈরি করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেন, চাকসুর নারী নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ কেবল নারী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গণের সুস্থ-সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত।
আজ বিকেলে চাকসুর নারী প্রতিনিধিদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী ফোন রিসিভ করেননি। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় তার ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতারকে মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।
