ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীররাতে রামদাসহ বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী আটক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীররাতে রামদাসহ বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী আটক
রামদাসহ আটক সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি নথিভুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এক বহিরাগত কর্মীকে রামদাসহ আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল থেকে নূর হোসেন বিপ্লব নামের ২৩ বছর বয়সী ওই যুবককে আটক করা হয়।

সন্ত্রাসী বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান 'আইএসএস'-এর কর্মী ও শাহ আমানত হলের বাবুর্চির ছেলে। অভিযোগ আছে, ক্যাম্পাসের অনেকে তাকে চেনেন ‘আতঙ্ক বিপ্লব’ নামে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিপ্লবের বিরোধ তৈরি হয়। টাকার অঙ্ক নিয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। 

এ ঘটনা নিয়ে একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিপ্লবের বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি হওয়ায় উভয় পক্ষ শাহ আমানত হলে বিষয়টি সমঝোতার জন্য বসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শাহ আমানত হলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিপ্লব একটি রামদা নিয়ে হলে প্রবেশ করেন।

হলের গেইট দিয়ে বিপ্লবকে রামদা হাতে ঢুকতে দেখে শাহ আমানত হল ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি আকাইদ খান তাকে হলের নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যান। সেখানে বিপ্লব নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ওই মোবাইল ফোনের ক্রেতারাও ছাত্রলীগের কর্মী।

বিপ্লব জানায়, আমার সাথে রাজনীতি করা সহকর্মীরা আমার সাথে বেঈমানী করেছে। তারা বেঈমানী করায় আমার রাগ হয়। তাই আমি তাদের শুধু ভয় দেখানোর জন্য রামদা নিয়ে এসেছি। আটক সন্ত্রাসী বিপ্লব আরো বলে, যারা আগে ছাত্রলীগ করতেন, তারা এখন ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ তাদের ‘শেল্টার’ দিচ্ছেন। ওই ছাত্রদল নেতা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে গেছেন। এসব কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ভয় দেখানোর’ চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাবেদ জানায়, ফোন নিয়ে যাদের সঙ্গে বিপ্লবের বিরোধ, তারা ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে আমার পরিচয় মাত্র দুই–তিন দিনের। ওই সমস্যার কারণেই তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

শাহ আমানত হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আকাইদ খান বলেন, আজ যেভাবে একজন দা হাতে হলে ঢুকতে পেরেছে, তাতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। শাহ আমানত হল বর্তমানে স্পষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটা বাইরের ঘটনা হলেও হলের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

চাকসুর আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষই বহিরাগত। বহিরাগতদের একটি বিরোধ মীমাংসার খাতিরে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা মোটেও কাম্য নয়।

তিনি বলেন, যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত, তার দায় সরাসরি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরই পড়তো। আইএসএসের নিরাপত্তা কর্মী, কর্মকর্তা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেই হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।

তবে প্রক্টর হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি মামলা করা হবে বলে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীররাতে রামদাসহ বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী আটক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি নথিভুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের এক বহিরাগত কর্মীকে রামদাসহ আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হল থেকে নূর হোসেন বিপ্লব নামের ২৩ বছর বয়সী ওই যুবককে আটক করা হয়।


সন্ত্রাসী বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান 'আইএসএস'-এর কর্মী ও শাহ আমানত হলের বাবুর্চির ছেলে। অভিযোগ আছে, ক্যাম্পাসের অনেকে তাকে চেনেন ‘আতঙ্ক বিপ্লব’ নামে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি চোরাই মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিপ্লবের বিরোধ তৈরি হয়। টাকার অঙ্ক নিয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। 


এ ঘটনা নিয়ে একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিপ্লবের বাবা শাহ আমানত হলের বাবুর্চি হওয়ায় উভয় পক্ষ শাহ আমানত হলে বিষয়টি সমঝোতার জন্য বসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শাহ আমানত হলে যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিপ্লব একটি রামদা নিয়ে হলে প্রবেশ করেন।


হলের গেইট দিয়ে বিপ্লবকে রামদা হাতে ঢুকতে দেখে শাহ আমানত হল ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি আকাইদ খান তাকে হলের নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যান। সেখানে বিপ্লব নিজেকে ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ওই মোবাইল ফোনের ক্রেতারাও ছাত্রলীগের কর্মী।


বিপ্লব জানায়, আমার সাথে রাজনীতি করা সহকর্মীরা আমার সাথে বেঈমানী করেছে। তারা বেঈমানী করায় আমার রাগ হয়। তাই আমি তাদের শুধু ভয় দেখানোর জন্য রামদা নিয়ে এসেছি। আটক সন্ত্রাসী বিপ্লব আরো বলে, যারা আগে ছাত্রলীগ করতেন, তারা এখন ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ তাদের ‘শেল্টার’ দিচ্ছেন। ওই ছাত্রদল নেতা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে গেছেন। এসব কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ভয় দেখানোর’ চেষ্টা করেছেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাবেদ জানায়, ফোন নিয়ে যাদের সঙ্গে বিপ্লবের বিরোধ, তারা ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে আমার পরিচয় মাত্র দুই–তিন দিনের। ওই সমস্যার কারণেই তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে।


শাহ আমানত হল সংসদের সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক আকাইদ খান বলেন, আজ যেভাবে একজন দা হাতে হলে ঢুকতে পেরেছে, তাতে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। শাহ আমানত হল বর্তমানে স্পষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটা বাইরের ঘটনা হলেও হলের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


চাকসুর আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষই বহিরাগত। বহিরাগতদের একটি বিরোধ মীমাংসার খাতিরে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা মোটেও কাম্য নয়।


তিনি বলেন, যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটত, তার দায় সরাসরি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপরই পড়তো। আইএসএসের নিরাপত্তা কর্মী, কর্মকর্তা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেই হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।


তবে প্রক্টর হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি মামলা করা হবে বলে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত