অপরাধ
বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এক শিক্ষার্থীর বাবাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ইসলামিক বক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে উদ্দেশ করে বলেন, “ছেলে তো মরেনি!”—এমন বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের তিনটি পৃথক অডিও রেকর্ডে রাজ্জাক বিন ইউসুফকে সরাসরি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে শোনা গেছে। এসব রেকর্ড শুক্রবার সকালে প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
মাদ্রাসা ও অভিযুক্তদের পরিচয়, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ রাজশাহীর পবা উপজেলায় একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। তিনি ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ছেলে আব্দুর রহমান ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং নিজেও একজন ইসলামিক বক্তা।
সম্প্রতি আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে সাতজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে এক শিক্ষার্থীর টাকা চুরি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা আব্দুর রহমান ওই সাত শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।
ঘটনার পর চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মেরাজুল ইসলাম রেন্টু বাদী হয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় শিক্ষক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুর রহমানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ নিজে ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অডিও রেকর্ডে যেসব কথা শোনা গেছে
একটি অডিও রেকর্ডে রাজ্জাক বিন ইউসুফকে বলতে শোনা যায়—
“আমি জানতে পারলাম না মামলার কাগজ আমার হাতে আসলো। আমার অসন্তুষ্ট থাকাটা আপনার ছেলের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ। আল্লাহর গজব থেকে আপনার ছেলেটাকে রক্ষা করার জন্য এখন আপনার সহজ পথ—কোথায় গেলে মামলা উঠে যাবে সেটা করা।”
আরেক রেকর্ডে শিশুর বাবা রেন্টু বলেন—
“একটা শিশুকে কি পরিমাণে মারা হলে সে বমি করতে পারে, মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারে?”
এর জবাবে রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন—
“এক বাড়িতেও মানুষ মারা যায়! আপনার ছেলে তো বেঁচে আছে! আপনি কোর্টে যত দিন চলবেন চলেন। মনে করবেন না যেন আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শেষ কথা—আপনি ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হোন।”
তৃতীয় অডিও রেকর্ডে রাজ্জাক বিন ইউসুফ প্রশ্ন করেন—
“আপনি কি প্রতিশোধের জন্য মামলা করেছেন?”
জবাবে রেন্টু বলেন—
“না, আমার ছেলের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।”
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন—
“তাহলে তো আপনার সঙ্গে এত কথা বলে হিসাব করতে পারলাম না। আল্লাহ আপনার ছেলেকে ধ্বংস করুক, হারিয়ে যাক। আল্লাহ এই ব্যবস্থা করে দিবে। আপনি মামলা চালান।”
অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন,
“মানুষের ছেলের ক্ষতি করবো—এটা আমরা কামনা করি না। আমি কল দিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু কী বলেছিলাম মনে নাই।”
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর বাবা মেরাজুল ইসলাম রেন্টু বলেন,
“পুলিশ এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশের অবস্থান
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন,
“ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা শুধু আব্দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। বাদীকে হুমকির বিষয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই।”
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিশু নির্যাতন ও মামলার বাদীকে হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় এক শিক্ষার্থীর বাবাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ইসলামিক বক্তা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে উদ্দেশ করে বলেন, “ছেলে তো মরেনি!”—এমন বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের তিনটি পৃথক অডিও রেকর্ডে রাজ্জাক বিন ইউসুফকে সরাসরি হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে শোনা গেছে। এসব রেকর্ড শুক্রবার সকালে প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
মাদ্রাসা ও অভিযুক্তদের পরিচয়, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ রাজশাহীর পবা উপজেলায় একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। তিনি ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ছেলে আব্দুর রহমান ওই মাদ্রাসার শিক্ষক এবং নিজেও একজন ইসলামিক বক্তা।
সম্প্রতি আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে সাতজন শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে এক শিক্ষার্থীর টাকা চুরি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা আব্দুর রহমান ওই সাত শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন।
ঘটনার পর চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মেরাজুল ইসলাম রেন্টু বাদী হয়ে নগরীর শাহমখদুম থানায় শিক্ষক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুর রহমানের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ নিজে ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অডিও রেকর্ডে যেসব কথা শোনা গেছে
একটি অডিও রেকর্ডে রাজ্জাক বিন ইউসুফকে বলতে শোনা যায়—
“আমি জানতে পারলাম না মামলার কাগজ আমার হাতে আসলো। আমার অসন্তুষ্ট থাকাটা আপনার ছেলের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ। আল্লাহর গজব থেকে আপনার ছেলেটাকে রক্ষা করার জন্য এখন আপনার সহজ পথ—কোথায় গেলে মামলা উঠে যাবে সেটা করা।”
আরেক রেকর্ডে শিশুর বাবা রেন্টু বলেন—
“একটা শিশুকে কি পরিমাণে মারা হলে সে বমি করতে পারে, মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারে?”
এর জবাবে রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন—
“এক বাড়িতেও মানুষ মারা যায়! আপনার ছেলে তো বেঁচে আছে! আপনি কোর্টে যত দিন চলবেন চলেন। মনে করবেন না যেন আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শেষ কথা—আপনি ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হোন।”
তৃতীয় অডিও রেকর্ডে রাজ্জাক বিন ইউসুফ প্রশ্ন করেন—
“আপনি কি প্রতিশোধের জন্য মামলা করেছেন?”
জবাবে রেন্টু বলেন—
“না, আমার ছেলের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।”
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন—
“তাহলে তো আপনার সঙ্গে এত কথা বলে হিসাব করতে পারলাম না। আল্লাহ আপনার ছেলেকে ধ্বংস করুক, হারিয়ে যাক। আল্লাহ এই ব্যবস্থা করে দিবে। আপনি মামলা চালান।”
অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেন,
“মানুষের ছেলের ক্ষতি করবো—এটা আমরা কামনা করি না। আমি কল দিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু কী বলেছিলাম মনে নাই।”
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর বাবা মেরাজুল ইসলাম রেন্টু বলেন,
“পুলিশ এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
পুলিশের অবস্থান
শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন,
“ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা শুধু আব্দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। বাদীকে হুমকির বিষয়ে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই।”
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিশু নির্যাতন ও মামলার বাদীকে হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল
