ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

ববিতে আবাসিক হলে তীব্র আবাসন সংকট; ভোগান্তিতে হাজারো শিক্ষার্থী

ববিতে আবাসিক হলে তীব্র আবাসন সংকট; ভোগান্তিতে হাজারো শিক্ষার্থী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।



বর্তমানে ববিতে শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি আবাসিক হল রয়েছে – বিজয় ২৪ হল, শের-ই-বাংলা হল,  (ছাত্রদের জন্য), এবং হল ও সুফিয়া কামাল হল,  তাপসী রাবেয়া খাতুন  (ছাত্রীদের জন্য) এই হলগুলোর মোট আসন সংখ্যা ৩০০০টি  মতো । অথচ, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে  ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি  অর্থাৎ ৭০ পাসেন্ট  শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। কয়েক জন শিক্ষার্থীরা জানান ,, তারা ক্যাম্পাসে আশেপাশে বরিশাল শহরের   ভিতরে নথল্লাবাদ, চৌমাথা ,  নতুন বাজার, বাংলা বাজার, রুপাতলিতে (মেস, ভাড়া বাসা) বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন  ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে  পাচ্ছেন না সঠিক নিরাপত্তা।

উদ্ভিদবিদ্যার ডিপার্টমেন্ট শিক্ষার্থী   মোঃ হাসিব বলেন,  ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। 

গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া সিরাজ সীমি বলেন, ছাত্রীদের  ক্ষেত্রে হলে অবসানের  সমস্যা আরও প্রকট। দূর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ পারভেজ বলেন ,আমার মতো আরো  অনেক শিক্ষার্থী  আছেন যারা মধ্যবৃত্ত ও গরিব টিউশনি বা পার্ট-টাইম কাজ করে নিজেদের খরচ জোগাতে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আবাসন ভাড়ার অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২০-২১)বর্ষের ছাত্র মোঃ তানজিল বলেন,"রুমে সদস্য সংখ্যা বেশি থাকার কারণে পড়াশোনার পরিবেশ নেই,রাতে ঘুমাতে গেলে শান্তি নেই। একজন আরেকজনকে শরীরের উপর হাত-পা উঠিয়ে দেয় যা খুবই বিরক্তিকর"।

আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এত বছর পরেও আবাসন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ  উপর প্রভাব হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত নতুন হল নির্মাণ এবং বিদ্যমান হলগুলোর আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা  আরো জানান যে,,  দ্রুত এই আবাসন সংকটের সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও ব্যাহত হবে এবং উচ্চশিক্ষার মান রক্ষায় এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড তৌফিক আলম জানান,"আমরা আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।একটি বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা সেরকম বাজেট পাচ্ছি না ।২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।এই বরাদ্দ দিয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রায় অসম্ভব,তবে সংকট নিরসনে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।"

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ববিতে আবাসিক হলে তীব্র আবাসন সংকট; ভোগান্তিতে হাজারো শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।



বর্তমানে ববিতে শিক্ষার্থীদের জন্য চারটি আবাসিক হল রয়েছে – বিজয় ২৪ হল, শের-ই-বাংলা হল,  (ছাত্রদের জন্য), এবং হল ও সুফিয়া কামাল হল,  তাপসী রাবেয়া খাতুন  (ছাত্রীদের জন্য) এই হলগুলোর মোট আসন সংখ্যা ৩০০০টি  মতো । অথচ, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে  ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজারেরও বেশি  অর্থাৎ ৭০ পাসেন্ট  শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। কয়েক জন শিক্ষার্থীরা জানান ,, তারা ক্যাম্পাসে আশেপাশে বরিশাল শহরের   ভিতরে নথল্লাবাদ, চৌমাথা ,  নতুন বাজার, বাংলা বাজার, রুপাতলিতে (মেস, ভাড়া বাসা) বাধ্য হয়ে থাকতে হচ্ছে। আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন  ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে  পাচ্ছেন না সঠিক নিরাপত্তা।

উদ্ভিদবিদ্যার ডিপার্টমেন্ট শিক্ষার্থী   মোঃ হাসিব বলেন,  ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। 

গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া সিরাজ সীমি বলেন, ছাত্রীদের  ক্ষেত্রে হলে অবসানের  সমস্যা আরও প্রকট। দূর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে গিয়ে তাদের পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ পারভেজ বলেন ,আমার মতো আরো  অনেক শিক্ষার্থী  আছেন যারা মধ্যবৃত্ত ও গরিব টিউশনি বা পার্ট-টাইম কাজ করে নিজেদের খরচ জোগাতে গিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আবাসন ভাড়ার অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০২০-২১)বর্ষের ছাত্র মোঃ তানজিল বলেন,"রুমে সদস্য সংখ্যা বেশি থাকার কারণে পড়াশোনার পরিবেশ নেই,রাতে ঘুমাতে গেলে শান্তি নেই। একজন আরেকজনকে শরীরের উপর হাত-পা উঠিয়ে দেয় যা খুবই বিরক্তিকর"।

আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এত বছর পরেও আবাসন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ  উপর প্রভাব হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত নতুন হল নির্মাণ এবং বিদ্যমান হলগুলোর আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। তারা  আরো জানান যে,,  দ্রুত এই আবাসন সংকটের সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও ব্যাহত হবে এবং উচ্চশিক্ষার মান রক্ষায় এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড তৌফিক আলম জানান,"আমরা আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।একটি বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমরা সেরকম বাজেট পাচ্ছি না ।২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।এই বরাদ্দ দিয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রায় অসম্ভব,তবে সংকট নিরসনে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।"


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত