ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

অসুস্থ হয়ে পড়েও থামেনি স্বপ্ন, চবির চিকিৎসাকেন্দ্রেই পরীক্ষা দিলো দুই নারী

অসুস্থ হয়ে পড়েও থামেনি স্বপ্ন, চবির চিকিৎসাকেন্দ্রেই পরীক্ষা দিলো দুই নারী
অসুস্থ দুই নারী ভর্তিচ্ছু পরীক্ষা দিচ্ছেন। মাঝে বসে আছেন চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা

দীর্ঘ পথ সফর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছেন দুই নারী পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কক্ষে ঢুকে একজন হয়ে পড়েন অসুস্থ, আরেকজনের শুরু হয় উদরাময় (বমি)। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানালে তারা তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করেন। মূলত ভর্তি পরীক্ষার উত্তেজনা, ভিড় আর সময়ের চাপ—সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা। 


আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে আসার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের ছাত্রী কোহিনূর আক্তার এবং লক্ষীপুরের রামগতি আহমদিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার। 

এ ঘটনায় মুহূর্তেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রে। বিষয়টি নজরে আসতেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দ্রুত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আধা ঘণ্টা বিলম্বে তাদের পরীক্ষা শুরু হয়। ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতাময় পরিবেশে এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে।


এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজন দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হন এবং অপরজন কেন্দ্রে বমি করতে থাকেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চবি মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে আসি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. সাঈদা আকতার শাহনাজ বলেন, খাবার না খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারা একাধিকবার বমি করেছেন। চিকিৎসা হিসেবে বমি প্রতিরোধক ওষুধ, অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুদ্দিন। তিনি জানান, কোহিনূর আক্তারের নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনে এবং সাদিয়া আক্তারের কেন্দ্র ছিল নতুন কলা অনুষদে। 

এ বিষয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়ে অসুস্থদের খোঁজ খবর নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

Public Voice

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


অসুস্থ হয়ে পড়েও থামেনি স্বপ্ন, চবির চিকিৎসাকেন্দ্রেই পরীক্ষা দিলো দুই নারী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ পথ সফর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছেন দুই নারী পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কক্ষে ঢুকে একজন হয়ে পড়েন অসুস্থ, আরেকজনের শুরু হয় উদরাময় (বমি)। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানালে তারা তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করেন। মূলত ভর্তি পরীক্ষার উত্তেজনা, ভিড় আর সময়ের চাপ—সবকিছুর মাঝেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা। 


আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে আসার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেন, চট্টগ্রাম মহিলা কলেজের ছাত্রী কোহিনূর আক্তার এবং লক্ষীপুরের রামগতি আহমদিয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী সাদিয়া আক্তার। 


এ ঘটনায় মুহূর্তেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রে। বিষয়টি নজরে আসতেই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দ্রুত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আধা ঘণ্টা বিলম্বে তাদের পরীক্ষা শুরু হয়। ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতাময় পরিবেশে এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের। সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে।


এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজন দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হন এবং অপরজন কেন্দ্রে বমি করতে থাকেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চবি মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে আসি। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. সাঈদা আকতার শাহনাজ বলেন, খাবার না খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তারা একাধিকবার বমি করেছেন। চিকিৎসা হিসেবে বমি প্রতিরোধক ওষুধ, অক্সিজেন ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মঈনুদ্দিন। তিনি জানান, কোহিনূর আক্তারের নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনে এবং সাদিয়া আক্তারের কেন্দ্র ছিল নতুন কলা অনুষদে। 


এ বিষয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়ে অসুস্থদের খোঁজ খবর নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত