ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

নবীনদের বরণ করে নিলো চবির আরবি বিভাগ

নবীনদের বরণ করে নিলো চবির আরবি বিভাগ
চবির আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। নবীনবরণ প্রদান করেছেন ২০২৫-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অনুষদের মিলনায়তন কক্ষে বিভাগের এ নবীনবরণের আয়োজন সম্পন্ন হয়। 

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আতাহার এবং আব্দুল্লাহ আল নাঈমের সঞ্চালনায় নবীন বরণে উপস্থিত ছিলেন চবির ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ, আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনুস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।

আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী হারেস মাতব্বর, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ আহনাফ এবং সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি নেয়ামত উল্লাহ আবরার ফারাবী, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব মাহমুদ রুমী, বাংলাদেশ অনলাইন মাদরাসার পরিচালক ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আকন্দসহ ২৪-২৫ এবং ২৫-২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমাদের অনেক সম্ভাবনা ও প্রাপ্তি রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজেদের দেশ, মানুষ ও পরিচয়ের মূল্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করি না। একজন বাংলাদেশি হিসেবে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আমাদের আছে। তাই দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে নিয়ে গর্ব করতে হবে এবং নিজের বাংলাদেশি পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করতে হবে। আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে হবে এবং নিজেদের প্রাপ্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

অনুভূতি প্রকাশ করে ২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মারুফ বলেন, গতকাল থেকেই একটু অসুস্থ ছিলাম। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, ‘আজ তো আমাদের প্রোগ্রাম!’ এরপর আর কিছু না ভেবেই রওনা হয়ে গেলাম। প্রোগ্রামে এসে এত সুন্দর আয়োজন, এত প্রাণবন্ত পরিবেশ আর উৎসবমুখরতা দেখে মনে হলো, অসুস্থতা যেন অর্ধেকেরও বেশি সেরে গেছে। দুপুরের আগেই বেশ ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আর দুপুরের পর কাওয়ালী ও নাটক উপভোগ করতে করতে বাকি অসুস্থতাটুকুও কোথায় যেন হারিয়ে গেল! আমি মনে করি, এত সুন্দর প্রোগ্রাম কোন সিনিয়র ব্যাচ তাদের জুনিয়রদেরকে দেয়নি। আমরা সত্যিই আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র হিসেবে এমন একটি ব্যাচকে পেয়ে অনেক আনন্দিত।

চবির আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতাবোধ কাজ করে। বিশেষ করে আমরা যখন কুরআন, ইসলাম ও আমাদের ধর্মীয় পরিচয়কে ধারণ করার কথা বলি, তখন অনেক সময় মনে করি, এগুলো প্রকাশ করলে হয়তো আমরা পিছিয়ে পড়ব, কিংবা অন্যদের কাছে নিজেদের ছোট করে ফেলব। এই হীনমন্যতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেখানকার মানুষ তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিসর্জন দেয়নি। তারা রাষ্ট্রের কাঠামোকে একভাবে ধারণ করে, আবার নিজেদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করে।

তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে আরো বলেন, তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কেন হীনমন্যতা থাকবে? আমরা কেন কুরআন ও ইসলামের প্রতি আমাদের বিশ্বাস এবং পরিচয় নিয়ে সংকোচবোধ করব? আমাদের উচিত নিজের পরিচয়কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধারণ করা। ইসলাম ও কুরআনের প্রতি বিশ্বাস কোনো হীনমন্যতার বিষয় নয়; বরং এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, প্যাড, কলমসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানান আয়োজক কমিটি।

বিষয় : ক্যাম্পাস

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নবীনদের বরণ করে নিলো চবির আরবি বিভাগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। নবীনবরণ প্রদান করেছেন ২০২৫-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অনুষদের মিলনায়তন কক্ষে বিভাগের এ নবীনবরণের আয়োজন সম্পন্ন হয়। 

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আতাহার এবং আব্দুল্লাহ আল নাঈমের সঞ্চালনায় নবীন বরণে উপস্থিত ছিলেন চবির ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ, আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইউনুস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।

আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী হারেস মাতব্বর, সহ-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ আহনাফ এবং সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি নেয়ামত উল্লাহ আবরার ফারাবী, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব মাহমুদ রুমী, বাংলাদেশ অনলাইন মাদরাসার পরিচালক ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত আকন্দসহ ২৪-২৫ এবং ২৫-২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আমাদের অনেক সম্ভাবনা ও প্রাপ্তি রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা নিজেদের দেশ, মানুষ ও পরিচয়ের মূল্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করি না। একজন বাংলাদেশি হিসেবে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আমাদের আছে। তাই দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে নিয়ে গর্ব করতে হবে এবং নিজের বাংলাদেশি পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করতে হবে। আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে চিনতে হবে এবং নিজেদের প্রাপ্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

অনুভূতি প্রকাশ করে ২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মারুফ বলেন, গতকাল থেকেই একটু অসুস্থ ছিলাম। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, ‘আজ তো আমাদের প্রোগ্রাম!’ এরপর আর কিছু না ভেবেই রওনা হয়ে গেলাম। প্রোগ্রামে এসে এত সুন্দর আয়োজন, এত প্রাণবন্ত পরিবেশ আর উৎসবমুখরতা দেখে মনে হলো, অসুস্থতা যেন অর্ধেকেরও বেশি সেরে গেছে। দুপুরের আগেই বেশ ভালো লাগতে শুরু করেছিল। আর দুপুরের পর কাওয়ালী ও নাটক উপভোগ করতে করতে বাকি অসুস্থতাটুকুও কোথায় যেন হারিয়ে গেল! আমি মনে করি, এত সুন্দর প্রোগ্রাম কোন সিনিয়র ব্যাচ তাদের জুনিয়রদেরকে দেয়নি। আমরা সত্যিই আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র হিসেবে এমন একটি ব্যাচকে পেয়ে অনেক আনন্দিত।

চবির আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাদের মধ্যে এক ধরনের হীনমন্যতাবোধ কাজ করে। বিশেষ করে আমরা যখন কুরআন, ইসলাম ও আমাদের ধর্মীয় পরিচয়কে ধারণ করার কথা বলি, তখন অনেক সময় মনে করি, এগুলো প্রকাশ করলে হয়তো আমরা পিছিয়ে পড়ব, কিংবা অন্যদের কাছে নিজেদের ছোট করে ফেলব। এই হীনমন্যতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেখানকার মানুষ তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিসর্জন দেয়নি। তারা রাষ্ট্রের কাঠামোকে একভাবে ধারণ করে, আবার নিজেদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করে।

তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে আরো বলেন, তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কেন হীনমন্যতা থাকবে? আমরা কেন কুরআন ও ইসলামের প্রতি আমাদের বিশ্বাস এবং পরিচয় নিয়ে সংকোচবোধ করব? আমাদের উচিত নিজের পরিচয়কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধারণ করা। ইসলাম ও কুরআনের প্রতি বিশ্বাস কোনো হীনমন্যতার বিষয় নয়; বরং এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, প্যাড, কলমসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন বলে জানান আয়োজক কমিটি।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত