মানবতামানবতা

ঝরে উড়ে গেছে ঘরের চাল: ছেলের পরিত্যক্ত ঘরে পঞ্চাশোর্ধ চান্দুর বেঁচে থাকার সংগ্রাম

ঝরে উড়ে গেছে ঘরের চাল: ছেলের পরিত্যক্ত ঘরে পঞ্চাশোর্ধ চান্দুর বেঁচে থাকার সংগ্রাম
ঝড়ে উড়ে যাওয়া ভাঙা ঘরের অসহায় চান্দু ময়না দম্পতি।

বৃষ্টি নামলেই ঘুম উবে যায় চান্দু মিয়ার (৫৫) চোখ থেকে। ঘরের টুকিটাকি জিনিসপত্র বাঁচাতে জড়িয়ে রাখতে হয় পলিথিনে, বাতাসে সেই পলিথিনের খসখস শব্দ আর বৃষ্টির রিমঝিম।

যা অন্য কারও কাছে হয়তো মুগ্ধতার উপকরণ, তা-ই চান্দু মিয়ার বুক থেকে টেনে বের করে আনে দীর্ঘশ্বাস। বলছিলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপী গ্রামের মন্ডলবাড়ি সংলগ্ন কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চান্দু ময়না দম্পতির কথা।

গত বছর ঝড়ে চান্দু মিয়ার বসতঘরের চাল উড়ে যায়। সেই থেকে আজও ঘরটি মেরামতের সামর্থ্য হয়নি তার। পুরো একটি বছর বৃষ্টি আর শীতের কনকনে বাতাস একসঙ্গে সহ্য করে কাটাতে হয়েছে তাকে ও স্ত্রী ময়না বেগমকে। শেষমেশ বাধ্য হয়ে তারা এখন থাকেন ছেলের রেখে যাওয়া একটি জীর্ণশীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে।যে ঘরের চেহারাই বলে দেয় দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র।

সেই ঘরেরও টিনের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে মেঝে কাদায় পরিণত হয়, তখন আশ্রয় নিতে হয় অন্যের বাড়িতে। আর ছেলে বাড়ি ফিরলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থাকার জায়গাটুকুও হয়ে পড়ে সংকীর্ণ।

চান্দু মিয়ার স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন,একসময় দিনমজুরের কাজ করতেন চান্দু মিয়া, কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর সেই সক্ষমতা নেই। বর্তমানে স্থানীয় একটি চালকলে কাজ করে মাসে পান মাত্র ৫০০ টাকা ও সামান্য ভাঙা চাল।

তা দিয়েই আমাদের কোনোরকমে টেনে নিচ্ছেন সংসার চলছে।স্থায়ী আয়ের উৎস, কোন সরকারি সহায়তা কার্ডও পাই নাই। সম্বল বলতে সামান্য এক খণ্ড জমি আর তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভাঙাচোরা ঘর।

এখানে বহু জনপ্রতিনিধি এসেছেন-গেছেন, কিন্তু এই দম্পতির দুর্দশার খবর রাখার মতো কেউ এগিয়ে আসেননি। থাকার ঘরটি বসবাসযোগ্য হলে হয়তো খেয়ে না খেয়ে হলেও শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন তারা।

স্থানীয় ব্যক্তি মো. শরিফুল ইসলাম মন্ডল বলেন, চান্দু মিয়া গ্রামের সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর একটি। দিনমজুরদের থেকেও কঠিন ভাবে দিন চলে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ তার পাশে দাঁড়াবেন। বর্তমান সময়ে মাসে ৫০০ টাকায় একটা মানুষের সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব কিন্তু তিনি ৫০০ টাকায় সংসার চালান।

এ বিষয়ে চৌকিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসানুল করিম পুটু বলেন, স্থানীয় মেম্বার এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব, আর বয়স হলে সরকারি ভাতার ব্যবস্থাও করা হবে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না, আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঝরে উড়ে গেছে ঘরের চাল: ছেলের পরিত্যক্ত ঘরে পঞ্চাশোর্ধ চান্দুর বেঁচে থাকার সংগ্রাম

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বৃষ্টি নামলেই ঘুম উবে যায় চান্দু মিয়ার (৫৫) চোখ থেকে। ঘরের টুকিটাকি জিনিসপত্র বাঁচাতে জড়িয়ে রাখতে হয় পলিথিনে, বাতাসে সেই পলিথিনের খসখস শব্দ আর বৃষ্টির রিমঝিম।

যা অন্য কারও কাছে হয়তো মুগ্ধতার উপকরণ, তা-ই চান্দু মিয়ার বুক থেকে টেনে বের করে আনে দীর্ঘশ্বাস। বলছিলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপী গ্রামের মন্ডলবাড়ি সংলগ্ন কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চান্দু ময়না দম্পতির কথা।


গত বছর ঝড়ে চান্দু মিয়ার বসতঘরের চাল উড়ে যায়। সেই থেকে আজও ঘরটি মেরামতের সামর্থ্য হয়নি তার। পুরো একটি বছর বৃষ্টি আর শীতের কনকনে বাতাস একসঙ্গে সহ্য করে কাটাতে হয়েছে তাকে ও স্ত্রী ময়না বেগমকে। শেষমেশ বাধ্য হয়ে তারা এখন থাকেন ছেলের রেখে যাওয়া একটি জীর্ণশীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে।যে ঘরের চেহারাই বলে দেয় দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র।

সেই ঘরেরও টিনের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে মেঝে কাদায় পরিণত হয়, তখন আশ্রয় নিতে হয় অন্যের বাড়িতে। আর ছেলে বাড়ি ফিরলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থাকার জায়গাটুকুও হয়ে পড়ে সংকীর্ণ।


চান্দু মিয়ার স্ত্রী ময়না খাতুন বলেন,একসময় দিনমজুরের কাজ করতেন চান্দু মিয়া, কিন্তু বয়সের ভারে এখন আর সেই সক্ষমতা নেই। বর্তমানে স্থানীয় একটি চালকলে কাজ করে মাসে পান মাত্র ৫০০ টাকা ও সামান্য ভাঙা চাল।

তা দিয়েই আমাদের কোনোরকমে টেনে নিচ্ছেন সংসার চলছে।স্থায়ী আয়ের উৎস, কোন সরকারি সহায়তা কার্ডও পাই নাই। সম্বল বলতে সামান্য এক খণ্ড জমি আর তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভাঙাচোরা ঘর।

এখানে বহু জনপ্রতিনিধি এসেছেন-গেছেন, কিন্তু এই দম্পতির দুর্দশার খবর রাখার মতো কেউ এগিয়ে আসেননি। থাকার ঘরটি বসবাসযোগ্য হলে হয়তো খেয়ে না খেয়ে হলেও শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন তারা।


স্থানীয় ব্যক্তি মো. শরিফুল ইসলাম মন্ডল বলেন, চান্দু মিয়া গ্রামের সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর একটি। দিনমজুরদের থেকেও কঠিন ভাবে দিন চলে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও বিত্তবানদের কাছে অনুরোধ তার পাশে দাঁড়াবেন। বর্তমান সময়ে মাসে ৫০০ টাকায় একটা মানুষের সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব কিন্তু তিনি ৫০০ টাকায় সংসার চালান।


এ বিষয়ে চৌকিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসানুল করিম পুটু বলেন, স্থানীয় মেম্বার এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব, আর বয়স হলে সরকারি ভাতার ব্যবস্থাও করা হবে।


ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না, আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত