ক্যাম্পাস
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের উন্মাদনা, আবেগ আর শিহরণ। ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগকে আরও রাঙিয়ে তুলতে এবং বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সব ইতিহাস মলাটবন্দি করতে প্রকাশিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহিমুল হক অনিকের প্রথম বই ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্যাক্টবল’।
২০২৬ সালের আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মূলত একটি পরিপূর্ণ ওয়ার্ল্ডকাপ এনসাইক্লোপিডিয়া হিসেবে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থা ‘ইচ্ছে স্বপ্ন প্রকাশনী’।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ফুটবল ভক্তদের হাতে বিশ্বকাপের সম্পূর্ণ ইতিহাস তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিটি আসরের রোমাঞ্চকর ম্যাচ, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের রেকর্ড, বিতর্ক এবং স্মরণীয় সব মুহূর্ত স্থান পেয়েছে এই বইটিতে।
প্রচ্ছদটি ইংরেজি ভাষায় আকর্ষণীয়ভাবে ডিজাইন করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সহজ ও সাবলীল বাংলা ভাষায় লেখা বই। ১৯৩০ সালের প্রথম আসর থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘ ৯২ বছরের ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানে উঠে এসেছে।
বইটিতে স্থান পেয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া নানামুখী বিতর্ক, ঐতিহাসিক সব ঘটনা ও আইন , চোখ কপালে তোলার মতো অজানা সব তথ্য , স্মরণীয় স্টেডিয়াম বা ভেন্যু এবং বিভিন্ন আসরের সেরা পুরস্কারের আদ্যোপান্ত। বিশেষ করে ফুটবলপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে এমন কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা বইটিতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বইটিতে আরও স্থান পেয়েছে ফুটবল ইতিহাসে রোমাঞ্চকর এবং বিতর্কিত সব ঘটনাবলি। বিশ্বকাপ ১৯৩০, প্রথম আসরেই ফাইনাল ম্যাচে নিজের পছন্দের বল নিয়ে খেলতে অপোনেন্ট বা প্রতিপক্ষ দলের অস্বীকৃতি জানানোর নেপথ্যের রোমাঞ্চকর কাহিনী। ফুটবল বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইতালির একনায়ক মুসোলনির ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ প্রমোট করার ইতিহাস। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে চরম ওভারকনফিডেন্স বা অতি-আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিয়ে ব্রাজিলের শিরোপা হারানোর সেই স্তব্ধ করে দেওয়া ‘মারাকানাজো’ ঘটনা।
উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে চিলি ও ইতালির মধ্যকার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সহিংস ও কুখ্যাত ‘ব্যাটল অব সান্তিয়াগো’ ম্যাচের বিবরণ। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স এবং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ কেলেঙ্কারির ভেতরের গল্প। ২০০২ সালে চিরবৈরী ও ঐতিহাসিক দূরত্বের দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃক যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করার পেছনের চমকপ্রদ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কাহিনী। বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটে যাওয়া এমন অসংখ্য রোমাঞ্চকর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে বইটির পাতায়।
বইটি প্রকাশের পরপরই ক্যাম্পাসের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে বাংলা ভাষায় ফুটবল নিয়ে করা একটি অন্যতম সমৃদ্ধ কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তরুণ এই লেখকের নিখুঁত তথ্য উপস্থাপন এবং সাবলীল লিখনশৈলী প্রশংসিত হচ্ছে পাঠক মহলেও।
লেখক অনিক বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ বরাবরই আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট, এই বিশ্বকাপ সময়টা খুবই উপভোগ্য একটা সময়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে যখন বিভিন্ন ফুটবল বিষয়ক তথ্য জানা শুরু করি, ম্যাগাজিন কেনা শুরু করি তখন এই বিষয়ে জানতে খুবই মজা লাগছিলো।তাই বিভিন্ন লাইব্রেরি আর ইন্টারনেট ঘেটে নিজের একটা ব্যাক্তিগত ফ্যাক্টবল (ফুটবলভিত্তিক ফ্যাক্টস) তৈরি করা শুরু করি। অবশেষে ২০২২ বিশ্বকাপে যখন নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা কে বিশ্বকাপ জয় করতে দেখি, তখন তো আকাশচুম্বী আনন্দ! তাই বিশ্বকাপ শেষে এবার নিজের জ্ঞানের সর্বস্ব ঢেলে নিজের একটি ব্যাক্তিগত খাতা লিখা শুরু করলাম।সময়ের প্রেক্ষিতে এই খাতাটি বন্ধুদের দেখানো শুরু করি আর তারা উৎসাহ দিতে থাকে এটি বই হিসেবে প্রকাশের জন্য। প্রথমত ব্যাপারটা মজার ছলেই নিতাম যেহেতু বই ছাপাবো এমন কোনো প্ল্যান আমার মোটেও ছিলোনা কিন্তু বন্ধুদের জোরাজুরিতে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবনা শুরু করলাম। অতঃপর, তাদের সাহায্যেই দেরি করে হলেও লিখে ফেললাম আমার প্রথম বই "ওয়ার্ড কাপ ফ্যাক্টবল"।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের উন্মাদনা, আবেগ আর শিহরণ। ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগকে আরও রাঙিয়ে তুলতে এবং বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর সব ইতিহাস মলাটবন্দি করতে প্রকাশিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহিমুল হক অনিকের প্রথম বই ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ফ্যাক্টবল’।
২০২৬ সালের আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মূলত একটি পরিপূর্ণ ওয়ার্ল্ডকাপ এনসাইক্লোপিডিয়া হিসেবে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থা ‘ইচ্ছে স্বপ্ন প্রকাশনী’।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ফুটবল ভক্তদের হাতে বিশ্বকাপের সম্পূর্ণ ইতিহাস তুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিটি আসরের রোমাঞ্চকর ম্যাচ, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের রেকর্ড, বিতর্ক এবং স্মরণীয় সব মুহূর্ত স্থান পেয়েছে এই বইটিতে।
প্রচ্ছদটি ইংরেজি ভাষায় আকর্ষণীয়ভাবে ডিজাইন করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সহজ ও সাবলীল বাংলা ভাষায় লেখা বই। ১৯৩০ সালের প্রথম আসর থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘ ৯২ বছরের ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানে উঠে এসেছে।
বইটিতে স্থান পেয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া নানামুখী বিতর্ক, ঐতিহাসিক সব ঘটনা ও আইন , চোখ কপালে তোলার মতো অজানা সব তথ্য , স্মরণীয় স্টেডিয়াম বা ভেন্যু এবং বিভিন্ন আসরের সেরা পুরস্কারের আদ্যোপান্ত। বিশেষ করে ফুটবলপ্রেমীদের আকৃষ্ট করবে এমন কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা বইটিতে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বইটিতে আরও স্থান পেয়েছে ফুটবল ইতিহাসে রোমাঞ্চকর এবং বিতর্কিত সব ঘটনাবলি। বিশ্বকাপ ১৯৩০, প্রথম আসরেই ফাইনাল ম্যাচে নিজের পছন্দের বল নিয়ে খেলতে অপোনেন্ট বা প্রতিপক্ষ দলের অস্বীকৃতি জানানোর নেপথ্যের রোমাঞ্চকর কাহিনী। ফুটবল বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইতালির একনায়ক মুসোলনির ফ্যাসিজম বা ফ্যাসিবাদ প্রমোট করার ইতিহাস। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে চরম ওভারকনফিডেন্স বা অতি-আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিয়ে ব্রাজিলের শিরোপা হারানোর সেই স্তব্ধ করে দেওয়া ‘মারাকানাজো’ ঘটনা।
উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে চিলি ও ইতালির মধ্যকার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সহিংস ও কুখ্যাত ‘ব্যাটল অব সান্তিয়াগো’ ম্যাচের বিবরণ। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার সেই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স এবং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ কেলেঙ্কারির ভেতরের গল্প। ২০০২ সালে চিরবৈরী ও ঐতিহাসিক দূরত্বের দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃক যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করার পেছনের চমকপ্রদ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কাহিনী। বিশ্বকাপ ফুটবলে ঘটে যাওয়া এমন অসংখ্য রোমাঞ্চকর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে বইটির পাতায়।
বইটি প্রকাশের পরপরই ক্যাম্পাসের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এটিকে বাংলা ভাষায় ফুটবল নিয়ে করা একটি অন্যতম সমৃদ্ধ কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তরুণ এই লেখকের নিখুঁত তথ্য উপস্থাপন এবং সাবলীল লিখনশৈলী প্রশংসিত হচ্ছে পাঠক মহলেও।
লেখক অনিক বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ বরাবরই আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট, এই বিশ্বকাপ সময়টা খুবই উপভোগ্য একটা সময়। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে যখন বিভিন্ন ফুটবল বিষয়ক তথ্য জানা শুরু করি, ম্যাগাজিন কেনা শুরু করি তখন এই বিষয়ে জানতে খুবই মজা লাগছিলো।তাই বিভিন্ন লাইব্রেরি আর ইন্টারনেট ঘেটে নিজের একটা ব্যাক্তিগত ফ্যাক্টবল (ফুটবলভিত্তিক ফ্যাক্টস) তৈরি করা শুরু করি। অবশেষে ২০২২ বিশ্বকাপে যখন নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনা কে বিশ্বকাপ জয় করতে দেখি, তখন তো আকাশচুম্বী আনন্দ! তাই বিশ্বকাপ শেষে এবার নিজের জ্ঞানের সর্বস্ব ঢেলে নিজের একটি ব্যাক্তিগত খাতা লিখা শুরু করলাম।সময়ের প্রেক্ষিতে এই খাতাটি বন্ধুদের দেখানো শুরু করি আর তারা উৎসাহ দিতে থাকে এটি বই হিসেবে প্রকাশের জন্য। প্রথমত ব্যাপারটা মজার ছলেই নিতাম যেহেতু বই ছাপাবো এমন কোনো প্ল্যান আমার মোটেও ছিলোনা কিন্তু বন্ধুদের জোরাজুরিতে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবনা শুরু করলাম। অতঃপর, তাদের সাহায্যেই দেরি করে হলেও লিখে ফেললাম আমার প্রথম বই "ওয়ার্ড কাপ ফ্যাক্টবল"।
