অন্যান্য
ইসলামের দৃষ্টিতে সফলতা কেবল পার্থিব অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সমন্বয়ই হলো প্রকৃত সফলতা। আধুনিক সমাজে সফলতা বলতে সাধারণত অর্থ, পদমর্যাদা বা খ্যাতিকে বোঝানো হলেও কোরআন ও হাদিস ভিন্ন এক মানদণ্ডে সফলতার ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
পবিত্র কোরআনে সফলতা বোঝাতে বারবার “ফালাহ্” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ—মুক্তি, কল্যাণ ও চূড়ান্ত বিজয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“নিশ্চয়ই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে।” (সূরা আল-মুমিনূন: ১)
এই আয়াতের পরপরই আল্লাহ সফল মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন—নামাজে মনোযোগী হওয়া, অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা, যাকাত প্রদান, চরিত্র সংরক্ষণ এবং আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে সফলতার ভিত্তি হলো ঈমান ও সৎকর্ম।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে,
“আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (সূরা আল-ইমরান: ১৩০)
এখানে তাকওয়াকে সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকওয়া মানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
ইসলামের দৃষ্টিতে চূড়ান্ত সফলতা আখিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,
“যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো—সে-ই সফল।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, পার্থিব সাফল্য ক্ষণস্থায়ী হলেও জান্নাত লাভই প্রকৃত ও স্থায়ী সফলতা।
হাদিস শরিফেও রাসূলুল্লাহ ﷺ সফলতার বাস্তব রূপ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন,
“প্রকৃত ধনী সে নয় যার প্রচুর সম্পদ আছে; বরং প্রকৃত ধনী সে, যার অন্তর সন্তুষ্ট।” (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)
এ হাদিসে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে যে, মানসিক প্রশান্তি ও সন্তুষ্টিই সফল জীবনের অন্যতম মাপকাঠি।
অন্য এক হাদিসে নবী ﷺ বলেন,
“বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।” (তিরমিজি)
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আখিরাতকে সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করে, সেই প্রকৃত অর্থে সফল।
ইসলাম সময়ের সঠিক ব্যবহারকেও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখেছে। রাসূল ﷺ বলেন,
“দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।” (সহীহ বুখারি)
এই হাদিস মানুষকে সময় ও সক্ষমতার সদ্ব্যবহারে সচেতন করে।
সার্বিকভাবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বলা যায়, সফলতা মানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নৈতিক চরিত্র গঠন, দায়িত্বশীল জীবনযাপন এবং আখিরাতের মুক্তি নিশ্চিত করা। পার্থিব অর্জন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা আল্লাহর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ইসলামের এই সফলতার ধারণা মানুষকে ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের করে এনে নৈতিকতা, মানবিকতা ও চিরস্থায়ী কল্যাণের পথে পরিচালিত করে—যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে সফলতা কেবল পার্থিব অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সমন্বয়ই হলো প্রকৃত সফলতা। আধুনিক সমাজে সফলতা বলতে সাধারণত অর্থ, পদমর্যাদা বা খ্যাতিকে বোঝানো হলেও কোরআন ও হাদিস ভিন্ন এক মানদণ্ডে সফলতার ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
পবিত্র কোরআনে সফলতা বোঝাতে বারবার “ফালাহ্” শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ—মুক্তি, কল্যাণ ও চূড়ান্ত বিজয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“নিশ্চয়ই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে।” (সূরা আল-মুমিনূন: ১)
এই আয়াতের পরপরই আল্লাহ সফল মুমিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন—নামাজে মনোযোগী হওয়া, অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা, যাকাত প্রদান, চরিত্র সংরক্ষণ এবং আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামে সফলতার ভিত্তি হলো ঈমান ও সৎকর্ম।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে,
“আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (সূরা আল-ইমরান: ১৩০)
এখানে তাকওয়াকে সফলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকওয়া মানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।
ইসলামের দৃষ্টিতে চূড়ান্ত সফলতা আখিরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,
“যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো—সে-ই সফল।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, পার্থিব সাফল্য ক্ষণস্থায়ী হলেও জান্নাত লাভই প্রকৃত ও স্থায়ী সফলতা।
হাদিস শরিফেও রাসূলুল্লাহ ﷺ সফলতার বাস্তব রূপ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন,
“প্রকৃত ধনী সে নয় যার প্রচুর সম্পদ আছে; বরং প্রকৃত ধনী সে, যার অন্তর সন্তুষ্ট।” (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)
এ হাদিসে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে যে, মানসিক প্রশান্তি ও সন্তুষ্টিই সফল জীবনের অন্যতম মাপকাঠি।
অন্য এক হাদিসে নবী ﷺ বলেন,
“বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।” (তিরমিজি)
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আখিরাতকে সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করে, সেই প্রকৃত অর্থে সফল।
ইসলাম সময়ের সঠিক ব্যবহারকেও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখেছে। রাসূল ﷺ বলেন,
“দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।” (সহীহ বুখারি)
এই হাদিস মানুষকে সময় ও সক্ষমতার সদ্ব্যবহারে সচেতন করে।
সার্বিকভাবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বলা যায়, সফলতা মানে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নৈতিক চরিত্র গঠন, দায়িত্বশীল জীবনযাপন এবং আখিরাতের মুক্তি নিশ্চিত করা। পার্থিব অর্জন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা আল্লাহর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
ইসলামের এই সফলতার ধারণা মানুষকে ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের করে এনে নৈতিকতা, মানবিকতা ও চিরস্থায়ী কল্যাণের পথে পরিচালিত করে—যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর।
