ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

রক্তাক্ত ২৬ আগস্ট: জাবিতে আজও স্মরণীয় ছাত্রদল নেতা কবির

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৬ আগস্ট। ১৯৮৯ সালের এই দিনে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও জাবি ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আজও উজ্জ্বল কবিরের স্মৃতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান কবির শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

ছাত্রদল মনোনীত জাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কবিরের সহপাঠী কে এম রাশেদুল হাসান মাসুম সেদিনের নৃশংস ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্টের আগের দিন ঢাকায় আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের ওপর শিবিরের হামলার মাধ্যমে। পরদিন সকালে হলের কমন রুমে বসে পত্রিকায় এই খবর দেখে জাবি ক্যাম্পাসের ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন টিনশেড ব্লকে শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যান ছাত্রদল কর্মীরা। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘাত বেঁধে যায়। এরপর শিবিরের কর্মীরা সালাম-বরকত হলের দিকে গিয়ে মিছিল শুরু করে। সাভারের স্থানীয় ও সাহসী কর্মী হিসেবে পরিচিত কবির তখন হল থেকে নিচে নামছিলেন। তিনতলার সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় শিবিরের কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত করে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১১ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৬ আগস্ট মারা যান তিনি।

কবিরের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে দলীয় তদারকির অভাব ও রাজনৈতিক অনাগ্রহের কারণে মামলাটি আর এগোয়নি বলে জানান ছাত্রদল নেতারা। একপর্যায়ে আদালত ও থানা থেকে মামলার নথিপত্র সম্পূর্ণ গায়েব করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।

কবিরের ছোট বোন জেসমিন বলেন, আজকের এই দিনে শিবিরের হামলায় আমার ভাই নিহত হয়েছিল। তখন আমরা অনেক ছোট ছিলাম, পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের কাছে ঘটনা শুনেছি। আমরা আজও বিচার পাইনি। আল্লাহ তাআলা এর বিচার করবেন।

ঘটনার বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "হাবিবুর রহমান কবির ভাই সেদিনের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল। একই সংঘর্ষে আমাদেরও ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।"

তিনি আরও দাবি করেন, "পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কবির ভাইকে শিবির সন্দেহে ভুল করে পুনরায় পিটিয়ে আহত করে, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিবিরের আহত নেতাকর্মীদের আসামি করা হলেও বিচারিক আদালত থেকে তাঁরা সবাই বেকসুর খালাস ও নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।"

Public Voice

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রক্তাক্ত ২৬ আগস্ট: জাবিতে আজও স্মরণীয় ছাত্রদল নেতা কবির

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৬ আগস্ট। ১৯৮৯ সালের এই দিনে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও জাবি ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আজও উজ্জ্বল কবিরের স্মৃতি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান কবির শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।


ছাত্রদল মনোনীত জাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কবিরের সহপাঠী কে এম রাশেদুল হাসান মাসুম সেদিনের নৃশংস ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্টের আগের দিন ঢাকায় আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের ওপর শিবিরের হামলার মাধ্যমে। পরদিন সকালে হলের কমন রুমে বসে পত্রিকায় এই খবর দেখে জাবি ক্যাম্পাসের ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।


পরবর্তীতে আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন টিনশেড ব্লকে শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে যান ছাত্রদল কর্মীরা। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘাত বেঁধে যায়। এরপর শিবিরের কর্মীরা সালাম-বরকত হলের দিকে গিয়ে মিছিল শুরু করে। সাভারের স্থানীয় ও সাহসী কর্মী হিসেবে পরিচিত কবির তখন হল থেকে নিচে নামছিলেন। তিনতলার সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় শিবিরের কর্মীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত করে।


আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে পিজি (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১১ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৬ আগস্ট মারা যান তিনি।


কবিরের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে দলীয় তদারকির অভাব ও রাজনৈতিক অনাগ্রহের কারণে মামলাটি আর এগোয়নি বলে জানান ছাত্রদল নেতারা। একপর্যায়ে আদালত ও থানা থেকে মামলার নথিপত্র সম্পূর্ণ গায়েব করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।


কবিরের ছোট বোন জেসমিন বলেন, আজকের এই দিনে শিবিরের হামলায় আমার ভাই নিহত হয়েছিল। তখন আমরা অনেক ছোট ছিলাম, পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের কাছে ঘটনা শুনেছি। আমরা আজও বিচার পাইনি। আল্লাহ তাআলা এর বিচার করবেন।


ঘটনার বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "হাবিবুর রহমান কবির ভাই সেদিনের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল। একই সংঘর্ষে আমাদেরও ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।"


তিনি আরও দাবি করেন, "পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কবির ভাইকে শিবির সন্দেহে ভুল করে পুনরায় পিটিয়ে আহত করে, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শিবিরের আহত নেতাকর্মীদের আসামি করা হলেও বিচারিক আদালত থেকে তাঁরা সবাই বেকসুর খালাস ও নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।"



Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত