ক্যাম্পাস
শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল ও এ.এফ রহমান হলের একমাত্র ক্যান্টিন বন্ধ করে পরিচালককে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন খাবার ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে দুই হলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্যান্টিন বন্ধ করে পরিচালক অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাতে ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনের চুক্তিপত্র সাময়িক বাতিল করে ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেয় এ এফ রহমান হল প্রশাসন।
উনাকে অবশ্যই আবার সুযোগ দেওয়া উচিত। কেননা আশেপাশের ক্যাফেটেরিয়ারগুলোর মধ্যে উনিই ভালো খাবারটা প্রোভাইড করেন। শিক্ষার্থীরাও উনাকে চায়। —আলাওল হলের বাসিন্দা ফাহিম সারোয়ার
এসময় আলাওল হলের প্রভোস্ট উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনার পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য পুনরায় আলোচনায় বসার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে দুই হলের খাবার ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিন
বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আগামী রোববার অফিস খুললে বিষয়টি নিয়ে দুই হলের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবো —চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, চবির আলাওল হলে ২৫৭ জন এবং এ এফ রহমান হলে ২৫৮ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন খাবার ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে দুই হলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। ফলে হল সংলগ্ন এবং ক্যাম্পাসের আশেপাশের মেস, কটেজ ও বাসার শত শত অনাবাসিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ক্যান্টিনের ওপর নির্ভর করেন। এই ক্যান্টিনের পরিচালক সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে খাবার পরিবেশন করেন। কম খরচে খাবারের এই ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।
ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনের কিছু বকেয়া রয়েছে। তবে যদি শিক্ষার্থীরা তাকে পরিচালক হিসেবে চায়, তাহলে তিনি থাকতে পারেন —চবির আলাওল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ জমালুল আকবর চৌধুরী।
আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ক্যান্টিনের পরিচালক সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহনীয় দামে খাবার পরিবেশন করেন।
শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা ছাড়াই একতরফা প্রকাশ করা হয় এই নোটিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনকে নিয়ে শিক্ষার্থী আল-আমীন হোসাইন আকাশ বলেন, ‘ছাত্র ছাড়া আগন্তুক পথিককেও বিনামূল্যে খাওয়াতে দেখেছি। অমায়িক একজন মানুষ।’ সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘উনি মানবিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। ভুল হয়ে থাকলে সংশোধনের সুযোগ দেয়া উচিত।’
শিক্ষার্থীদের এই দাবি হল প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইভাবে, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে হল সংসদের পক্ষ থেকেও আমরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছি না —চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।
শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এত এত ছাত্রছাত্রীরা যেহেতু বলছে তাহলে লোকটির বিষয়ে আরও মানবিক হওয়া উচিত বলে মনে হচ্ছে।’ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, ‘উনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ, উনাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। আমার কাছে এখনও কিছু টাকা পাবেন। ঘটনাটা সামনে আসার পর মনে পড়ল, কিছুদিনের মধ্যে দিয়ে দিব।’
আলাওল হলের বাসিন্দা ফাহিম সারোয়ার বলেন, উনাকে অবশ্যই আবার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে। কেননা আশেপাশের ক্যাফেটেরিয়ারগুলোর মধ্যে উনিই ভালো খাবারটা প্রোভাইড করেন। শিক্ষার্থীরাও উনাকে চায়।
আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজ বলেন, এটি নিয়ে আমরা আমাদের হল সংসদ ও হলের গ্রুপে কথা বলেছিলাম। যেন এই ক্যান্টিনটি বন্ধ না করা হয়। ক্যান্টিন পরিচালক ভালো মনের মানুষ। আমরা চাই ক্যান্টিনটি চালু থাকুক।
ক্যান্টিন পরিচালনা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ক্যান্টিন পরিচালনা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত আমার ৪ লাখ টাকা দেনা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক টাকা বাকি আছে। বকেয়া পরিশোধে হল প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
এ.এফ রহমান হল ছাত্রসংসদের রিডিংরুম, ডাইনিং ও লাইব্রেরি সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সেসময় পদক্ষেপ নিই। আমরা একটি কমিউনিটি মেইনটেইন করি এবং সেই কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করি। এখন ওই কমিউনিটি যদি চায় এই মালিকানা নিয়ে সন্তুষ্ট, তাহলে আমরা সেটিই করবো।
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, চবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) অনুমতি ছাড়াই হল প্রশাসন ও হল সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যান্টিনের পরিচালকের সঙ্গে হওয়া মৌখিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান এবং মানবিক দিক বিবেচনায় ক্যান্টিন পরিচালককে পুনরায় সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রশাসন ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি তুলে ধরি। তাদের জানাই, আমরা যেহেতু শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করি এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, তাই ক্যান্টিন পরিচালককে অপসারণের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সরাসরি স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এই দাবি হল প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইভাবে, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে হল সংসদের পক্ষ থেকেও আমরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছি না।
এ. এফ. রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হল সংসদ ও চাকসুর অভিযোগ, এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভায় বসার চেষ্টা করে তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিন পুনরায় ক্যান্টিন পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আলাওল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ জমালুল আকবর চৌধুরী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনের কিছু বকেয়া রয়েছে। তবে যদি শিক্ষার্থীরা তাকে পরিচালক হিসেবে চায়, তাহলে তিনি থাকতে পারেন।
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আগামী রোববার অফিস খুললে বিষয়টি নিয়ে দুই হলের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবো।
বিষয় : শিক্ষার্থী

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল ও এ.এফ রহমান হলের একমাত্র ক্যান্টিন বন্ধ করে পরিচালককে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন খাবার ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে দুই হলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্যান্টিন বন্ধ করে পরিচালক অপসারণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাতে ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনের চুক্তিপত্র সাময়িক বাতিল করে ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেয় এ এফ রহমান হল প্রশাসন।
উনাকে অবশ্যই আবার সুযোগ দেওয়া উচিত। কেননা আশেপাশের ক্যাফেটেরিয়ারগুলোর মধ্যে উনিই ভালো খাবারটা প্রোভাইড করেন। শিক্ষার্থীরাও উনাকে চায়। —আলাওল হলের বাসিন্দা ফাহিম সারোয়ার
এসময় আলাওল হলের প্রভোস্ট উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনার পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য পুনরায় আলোচনায় বসার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। দীর্ঘ ১০ দিন ধরে দুই হলের খাবার ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিন
বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আগামী রোববার অফিস খুললে বিষয়টি নিয়ে দুই হলের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবো —চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, চবির আলাওল হলে ২৫৭ জন এবং এ এফ রহমান হলে ২৫৮ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন খাবার ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে দুই হলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। ফলে হল সংলগ্ন এবং ক্যাম্পাসের আশেপাশের মেস, কটেজ ও বাসার শত শত অনাবাসিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ক্যান্টিনের ওপর নির্ভর করেন। এই ক্যান্টিনের পরিচালক সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে খাবার পরিবেশন করেন। কম খরচে খাবারের এই ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে।
ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনের কিছু বকেয়া রয়েছে। তবে যদি শিক্ষার্থীরা তাকে পরিচালক হিসেবে চায়, তাহলে তিনি থাকতে পারেন —চবির আলাওল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ জমালুল আকবর চৌধুরী।
আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ক্যান্টিনের পরিচালক সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহনীয় দামে খাবার পরিবেশন করেন।
শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা ছাড়াই একতরফা প্রকাশ করা হয় এই নোটিশ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনকে নিয়ে শিক্ষার্থী আল-আমীন হোসাইন আকাশ বলেন, ‘ছাত্র ছাড়া আগন্তুক পথিককেও বিনামূল্যে খাওয়াতে দেখেছি। অমায়িক একজন মানুষ।’ সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘উনি মানবিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। ভুল হয়ে থাকলে সংশোধনের সুযোগ দেয়া উচিত।’
শিক্ষার্থীদের এই দাবি হল প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইভাবে, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে হল সংসদের পক্ষ থেকেও আমরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছি না —চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ।
শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এত এত ছাত্রছাত্রীরা যেহেতু বলছে তাহলে লোকটির বিষয়ে আরও মানবিক হওয়া উচিত বলে মনে হচ্ছে।’ শিক্ষার্থী মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, ‘উনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ, উনাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। আমার কাছে এখনও কিছু টাকা পাবেন। ঘটনাটা সামনে আসার পর মনে পড়ল, কিছুদিনের মধ্যে দিয়ে দিব।’
আলাওল হলের বাসিন্দা ফাহিম সারোয়ার বলেন, উনাকে অবশ্যই আবার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে। কেননা আশেপাশের ক্যাফেটেরিয়ারগুলোর মধ্যে উনিই ভালো খাবারটা প্রোভাইড করেন। শিক্ষার্থীরাও উনাকে চায়।
আলাওল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজ বলেন, এটি নিয়ে আমরা আমাদের হল সংসদ ও হলের গ্রুপে কথা বলেছিলাম। যেন এই ক্যান্টিনটি বন্ধ না করা হয়। ক্যান্টিন পরিচালক ভালো মনের মানুষ। আমরা চাই ক্যান্টিনটি চালু থাকুক।
ক্যান্টিন পরিচালনা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ক্যান্টিন পরিচালনা করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত আমার ৪ লাখ টাকা দেনা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক টাকা বাকি আছে। বকেয়া পরিশোধে হল প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
এ.এফ রহমান হল ছাত্রসংসদের রিডিংরুম, ডাইনিং ও লাইব্রেরি সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সেসময় পদক্ষেপ নিই। আমরা একটি কমিউনিটি মেইনটেইন করি এবং সেই কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করি। এখন ওই কমিউনিটি যদি চায় এই মালিকানা নিয়ে সন্তুষ্ট, তাহলে আমরা সেটিই করবো।
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, চবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) অনুমতি ছাড়াই হল প্রশাসন ও হল সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যান্টিনের পরিচালকের সঙ্গে হওয়া মৌখিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানান এবং মানবিক দিক বিবেচনায় ক্যান্টিন পরিচালককে পুনরায় সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রশাসন ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি তুলে ধরি। তাদের জানাই, আমরা যেহেতু শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করি এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি, তাই ক্যান্টিন পরিচালককে অপসারণের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ছিল, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সরাসরি স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এই দাবি হল প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার পর বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। একইভাবে, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে হল সংসদের পক্ষ থেকেও আমরা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছি না।
এ. এফ. রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হল সংসদ ও চাকসুর অভিযোগ, এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভায় বসার চেষ্টা করে তার সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইলে ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিন পুনরায় ক্যান্টিন পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আলাওল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মোহাম্মদ জমালুল আকবর চৌধুরী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্যান্টিন পরিচালক হেলাল উদ্দিনের কিছু বকেয়া রয়েছে। তবে যদি শিক্ষার্থীরা তাকে পরিচালক হিসেবে চায়, তাহলে তিনি থাকতে পারেন।
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আগামী রোববার অফিস খুললে বিষয়টি নিয়ে দুই হলের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করবো।
