ছবিতে হাস্যোজ্জ্বল যে তরুণীকে দেখা যাচ্ছে, তিনি ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতে স্বামী হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আফরোজা শেখ (ওরফে ইতি)।
আদালতের রায় অনুযায়ী, যুবলীগকর্মী শফিকুল ইসলাম (ওরফে সপু)-কে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
কিন্তু রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তাঁর মুখে ছিল হাসি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই।” এই দৃশ্য ও বক্তব্য অনেক মানুষকে বিস্মিত ও অস্বস্তিতে ফেলেছে।
আদালত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। একটি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি প্রকাশ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ না দেখা যায়, তবে তা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে।
একটি প্রাণ হারিয়েছে, একটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, অসংখ্য মানুষের চোখে নেমেছে অশ্রু। এমন একটি ঘটনার পরিণতির মুহূর্তেও যদি হাসি ফুটে ওঠে, তবে তা মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
আইনের আদালত শাস্তি নির্ধারণ করে। কিন্তু মানুষের বিবেকও নিজের মতো করে বিচার করে। অনুতাপ, সহমর্মিতা ও মানবিকতা—এসবই একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি। তাই এমন ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সহিংসতার পথ কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না; এর শেষ পরিণতি ধ্বংস ও বেদনা।
রায়ের দিনের সেই হাসি হয়তো কয়েক মুহূর্তের দৃশ্য। কিন্তু সেটি সমাজে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে যায়—মুখে হাসি থাকলেই কি হৃদয়ে মানবিকতা থাকে?






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।