শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
রাজনীতি

মৌলভীবাজারে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের লড়াই

দীর্ঘ ১৯ মাসেও সম্মেলন করতে না পারায় চরম সাংগঠনিক স্থবিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি। স্থানীয় পর্যায়ে বিবাদ মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় জেলার এই কোন্দল শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত। গত ১৭ই জুন মৌলভীবাজার সফরকালে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উদ্ভূধ পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জেলায় অধীনস্থ সব ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করে দ্রুত জেলা সম্মেলন আয়োজনের করার তাগিদ দিয়েছেন দলীয়প্রধান।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে এম নাসের রহমানকে সভাপতি ও মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপি’র সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছিল। তবে কিছুদিন পরই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং দলটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে কোন্দল মেটাতে ২০২৪ সালের ৪ঠা নভেম্বর ফয়জুল করিম ময়ুনকে আহ্বায়ক এবং আব্দুর রহিম রিপনকে সদস্যসচিব করে একটি ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এই কমিটি জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করতে পারেনি। ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটের সম্মেলন ঝুলে থাকায় আটকে আছে মূল জেলার কাউন্সিল।

গত ১৭ই জুন মৌলভীবাজারের স্থানীয় দুসাই রিসোর্টে জেলা ও সিলেট বিভাগীয় বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় বসেন তারেক রহমান। সেখানে তৃণমূলের একাংশ সরাসরি দলীয়প্রধানের কাছে জেলার সাংগঠনিক স্থবিরতার চিত্র তুলে ধরেন। সব শুনে তারেক রহমান অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁলে থাকা ৫টি ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করে মূল জেলা সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ দেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র, যুগ্ম আহ্বায়ক, আবুল হোসেন জানান:-“দলীয়প্রধানের নির্দেশনা পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির কাউন্সিল আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে ইউনিয়নের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।”

জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার বিএনপিতে এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। তৃণমূলের একটি বড় অংশ চাচ্ছে সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন ও গতিশীল কমিটি গঠন করা হোক। শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন হেভিওয়েট নেতারা:

সভাপতি ১.এম নাসের রহমান (সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য) 

২.ফয়জুল করিম ময়ুন (বর্তমান আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র) |

সাধারণ সম্পাদক ১.মিজানুর রহমান (সাবেক সাধারণ সম্পাদক)

২.আব্দুর রহিম রিপন (বর্তমান সদস্যসচিব)

গণমাধ্যমকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, “নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আহ্বায়ক কমিটি বসে ছিল না। আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করেছি। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্যাগী ও যোগ্যদের নিয়ে একটি সুন্দর পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

দলীয়প্রধানের এই কড়া নির্দেশনার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র নতুন নেতৃত্বের পথে কতটা এগিয়ে যেতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।