কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বারেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী (১২) পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা বিপ্লব মিয়ার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে অভিযুক্তরা। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদের দিন রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে এই জঘন্য অপরাধটি সংঘটিত হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা সিএনজি চালক সম্রাট ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত সম্রাট এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত।
পিতার ওপর নৃশংস হামলা
ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা বিপ্লব মিয়া ন্যায়বিচারের আশায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় সম্রাট, হানিফ ও তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিপ্লব মিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও দাবি
এই অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এলাকাবাসীর দাবি:
- প্রধান অভিযুক্ত সম্রাটসহ সকল সহযোগীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- ভুক্তভোগী পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।