শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
নারী-শিশু

ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য নয়, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে তালাক- নারীর স্বামী

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় বোন জামাইকে না জানিয়ে সম্বন্ধীর বিবাহিত নববধূকে বাড়িতে নিয়ে আসায় স্ত্রীকে মৌখিক তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বোন জামাই ফরিদ মিয়া। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ফরিদ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।

ফরিদ মিয়া জানান, গত ছয় বছর আগে তিনি একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী সইলাটি গ্রামের তাছলিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় বছর পার হলেও এই দম্পতির কোন সন্তানাদি হয়নি। তবুও সুখেই চলছিল তাদের সংসার। সম্প্রতি বিপত্তি বাঁধে ফরিদ মিয়ার সম্বন্ধী আব্দুল আউয়ালের বিয়ে নিয়ে।

ফরিদ মিয়া বলেন, আমি অনেক দেখেশুনে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের কালান্দর গ্রামে আমার সম্বন্ধী আউয়ালের বিয়ে ঠিক করি। নিজ খরচে সম্বন্ধীর বিয়ের অনুষ্ঠানও আমি সম্পন্ন করেছি। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় আগামী রোজার ঈদে ছেলে (জামাই) সাত দিনের ছুটিতে আসবে। তখন আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আমরা বউকে বাড়িতে আনবো। কিন্তু আমার সম্বন্ধী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে কিছু না বলেই গত বুধবার বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বিষয়টি আমার স্ত্রী তাছলিমাও আমাকে জানায়নি। যার ফলশ্রুতিতে আমি রাগের মাথায় আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। তবে এখন বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী তাছলিমা বলেন, এটা সত্য যে আমার স্বামী (ফরিদ মিয়া) বড় ভাইয়ের বউ দেখা থেকে শুরু করে বিয়ের অনুষ্ঠান নিজ খরচে আয়োজন করেন। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে বড় ভাই আউয়াল। কিন্তু এ সময় আমার স্বামীকে বিষয়টি জানাতে চাইলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে স্বামীকে এই বিষয়টি আর জানাতে পারেনি আমার পরিবার। এটা একটা রাগ এবং আমার স্বামী এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত এলডিপির ছাতা প্রতীকে ভোট দিতে বলেছিলেন আমাকে। কিন্তু আমি ধানের শীষে ভোট দিই। এই দুই কারণে আমার স্বামী ফরিদ মিয়া ক্ষোভে আমাকে তালাক দেয়। বিষয়টির এখনো কোন সুরাহা হয়নি।

তালাক দেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফরিদ মিয়া বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। মূলত আমার সম্বন্ধীর বিয়ে নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরেই তালাক দিয়েছি স্ত্রীকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ফরিদ মিয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আঠারবাড়ী ইউনিয়ন শাখার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক। মূলত ফরিদ তার একটি জমি বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয়। এর মধ্যে যুক্ত হয় ফরিদকে না জানিয়ে তার সম্বন্ধীর নববধূ বাড়িতে আনার রাগ। কিন্তু ফরিদের স্ত্রী তাছলিমা জানায় ধানের শীষে ভোট দেয়ায় তালাক দিয়েছে আমাকে। আসলে সত্যটা তারা স্বামী-স্ত্রীই বলতে পারবে। আমরা চাই এটার সুষ্ঠু একটা সমাধান হোক।

এদিকে ইতোমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এতে জনপ্রতিনিধি এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করার দাবি জানান সচেতন মহলের লোকজন।

নারী-শিশু থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।