বগুড়ার ধুনট উপজেলার দক্ষিণ ধুনটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের শ্যামবাড়ী দারুল হুদা কওমীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক মসজিদ নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ৪ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের এই বহুতল মসজিদের বেজ ঢালাইয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ মোঃ মজনু আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের উদ্বোধন ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বগুড়া জামিল মাদ্রাসার মঈনে মুহতামিম মুফতি আতাউল্লাহ নিজামী। বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের প্রখ্যাত আলেম হাফেজ মাওলানা হেলাল উদ্দিন নূরী।
প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম জানান, ক্রমবর্ধমান শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের সংকুলান নিশ্চিতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিতব্য এই মসজিদের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞটি সম্পূর্ণভাবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দান-সদকার অর্থে বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন— মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ মোঃ আব্দুর রহিম, প্রিন্সিপাল আলহাজ মাওলানা কে. এম. সুলতান মাহমুদ, নায়েবে মুহতামিম মুফতী এনামুল হক এবং শিক্ষা পরিচালক মুহিবুল্লাহ শাফী। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মোঃ শাহাদাত হোসেন চাঁন, মাওঃ জুনায়েদ আহমেদ, মাওলানা শফিকুল ইসলাম,আল খিদমাহ কওমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি আশেকে এলাহী শিবলী এবং সহ-সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম রবি। ধুনট ও কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ওলামায়ে কেরাম এবং ধুনট কওমী ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দও এতে অংশগ্রহণ করেন।
মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ মোঃ আব্দুর রহিম তার বক্তব্যে বলেন, “এই মসজিদটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং এটি হবে দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক উন্নয়নের একটি অনন্য কেন্দ্র। মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের স্থান সংকট নিরসনেই আমরা এই বড় উদ্যোগ নিয়েছি।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি মুফতি আতাউল্লাহ নিজামী দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মসজিদ নির্মাণকাজের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে হিলফুল ফুজুল সংগঠনের উদ্যোগে মাওলানা সানাউল্লাহ নিয়ামতি ও মাওলানা কে এম সুলতান মাহমুদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্যামবাড়ী দারুল হুদা কওমীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা। বর্তমানে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়নরত এবং কওমী শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করে আসছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এতদিন শিক্ষার্থীদের অনেক সময় কক্ষের ভেতরে নামাজ আদায় করতে হতো। এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মিত হলে সেই দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।