পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
পৈত্রিক সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন মো. ফরহাদ আহমেদ সম্রাট। ২০১১ সাল থেকে চলমান এ বিরোধে হামলা, বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর, লুটপাট এবং জমি জবরদখলের অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন তিনি।
ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের দাবি, তাদের দাদারা ছিলেন পাঁচ ভাই ও দুই বোন। তিনি ছোট দাদার ওয়ারিশ এবং তার চাচাতো ভাই ফিরোজ কবির, হুমায়ুন কবির ও ডালিম কবির বড় দাদার ওয়ারিশ। ওয়ারিশ সূত্রে উভয় পক্ষের ৪৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ করে জমির মালিকানা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, বাপ-দাদার আমল থেকেই সামনের দিক থেকে পেছনের প্লট পর্যন্ত সমপরিমাণ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জমি ভাগ করা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সামনের প্রায় আট শতাংশ জমি মতি মহাজনের কাছে বিক্রি করার পরও চাচাতো ভাইয়েরা সামনের অংশে আনুমানিক ১৬ শতাংশ জমি দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফরহাদ আহমেদ সম্রাট আরও অভিযোগ করেন, ২০১১ সাল থেকে জমির রাস্তার জায়গা দাবি করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তার পরিবারের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেও তিনি প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তার পৈত্রিক সম্পত্তির ৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ জায়গায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে থাকা বসতঘর ও চারটি দোকানঘর ভাঙচুর করে জবরদখল এবং দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ফৌজদারি মামলা করেন বলেও জানান। পরবর্তীতে মামলাটি পৌরসভায় স্থানান্তর করা হলেও দীর্ঘদিনেও তিনি বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে, ২০২১ সালে তার চাচাতো ভাই হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ফরহাদের বড় আব্বু মরহুম ফেরদৌস আলম তারা মিয়াকে বিবাদী করে রেকর্ড সংশোধনের মামলা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দায়ের করেন বলে জানান ফরহাদ। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে এসে কাগজপত্র সংশোধনের কথা বলে নথি প্রত্যাহার করে পুনরায় সদর কোর্টে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরহাদ আহমেদ সম্রাট বলেন, তার কাছে ৪০, ৬২ ও ৯০-এর রেকর্ডসহ জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র রয়েছে। এছাড়া ওই জমির ওপর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণসংক্রান্ত কাগজপত্রও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার আদায়ের লড়াই কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। আমি আমার বৈধ ও ন্যায্য অধিকার চাই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হয়রানি ও বিরোধের কারণে আমি নিরুপায় হয়ে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি।”
ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের দাবি, অতীতে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন নথি, কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে এসব নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অপর পক্ষের বক্তব্য জানতে পারলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। ফরহাদ আহমেদ সম্রাট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখল পরিস্থিতি নির্ধারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




