শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
আইন-আদালত

শিশুকে প্রত্যাখ্যান, মাতৃত্বের প্রশ্নে নীরব আদালত

বিচ্ছেদের পর ময়মনসিংহ আদালতে ডিভোর্সের মামলায় হাজির হয়ে এক মা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘এ বাচ্চা আমি চাই না, আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে’। মায়ের এমন বক্তব্যে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান আদালতে উপস্থিত বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। এ সন্তানকে ঘিরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে।

ময়মনসিংহ জেলার একটি পরিবারে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের ঘটনাটি ঘটে। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স তখন চার বছর। বিচ্ছেদের আগেই জন্ম নেয় আরেকটি সন্তান, যার বয়স মাত্র ৯০ দিন। বিচ্ছেদের পর সন্তানের হেফাজত নিয়ে আদালতে হাজির হন মা।

আদালতে নবজাতক সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আমার জীবনের একটা ভবিষ্যৎ আছে। এই বাচ্চা নিলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে।

মা : আমার সংসারে যখন আমি নাই, তো আমি বাচ্চা নিয়া কী করমু? এইডা আপনে আমারে বুঝাইয়া কন।

আদালত : তাই বলে ৩ মাসের বাচ্চা দিয়ে দিবেন?

মা : দিয়ে দেব।

আদালত : তিন মাসের বাচ্চা উনি পালতে পারবে?

মা : না পাললে আমার দেখার বিষয় না।

আদালত : এটা কোনো কথা হইলো, আপনি অন্তত দুই বছর পাইলা দেন।

মা : না না না, দুই মাসও রাখতে পারব না। আমার একটা ভবিষ্যৎ আছে। আমার সংসার যেহেতু আমার হাতে নাই, আমার তো ভবিষ্যৎ আছে না? 

শেষমেষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি মুক্ত হতে চান।

মায়ের বক্তব্য শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় আদালত। তিনি জানান, এ সন্তান নিলে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি নিজের জীবন গড়তে চান, নতুন করে শুরু করতে চান সবকিছু। এই সন্তানের বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না।

আদালত ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বারবার অন্তত দুই বছর পর্যন্ত শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার অনুরোধ জানালেও মা সোজাসাপ্টা বলেন, এই সন্তানের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শিশুটির ভবিষ্যৎ, মানবিকতা এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মায়ের চোখে সন্তানের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে নিজের ভবিষ্যৎ। বিষয়টি শুনে আদালত কক্ষে নেমে আসে নীরবতা।

শেষ পর্যন্ত বিচারক কঠোর অবস্থান নেন। সন্তানের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি সন্তানের মাসিক ভরণপোষণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যা বাবা বিনা আপত্তিতে মেনে নেন।

আইন-আদালত থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।