দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রির অভিযোগে তিনটি হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং একটি বেকারিকে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পার্বতীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৫–এর বিচারক সোহাগ হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—শাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মামা-ভাগিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং তাজ বেকারি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের খাবার, মিষ্টি, দই ও খোরমা তৈরি ও বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশে নানা অনিয়ম এবং খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেন।
দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা-সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় শাহ হোটেল, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল এবং মামা-ভাগিনা হোটেলকে ১ লাখ টাকা করে এবং তাজ বেকারিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে বিচারক সোহাগ হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতেও পার্বতীপুর উপজেলার হোটেল-রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও বেকারিগুলোতে তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দীর্ঘদিন পর এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।