শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
সারাদেশ

তেলাওয়াত অসন্তোষ থেকে ভাতা বিরোধ — ইমামকে অব্যাহতি নিয়ে মুখোমুখি ধুনটের মসজিদ কমিটি ও ইমাম

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সরকারি সম্মানি ভাতাকে কেন্দ্র করে ইমাম ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিরোধের জেরে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন সোহাগকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইমাম রুহুল আমিন সোহাগ অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় তিনি যে সরকারি সম্মানি ভাতা পান, সেই অর্থ মসজিদ ফান্ডে জমা দিতে তাঁকে বারবার চাপ দেওয়া হয়। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় গত ২৭ মে রাতে মোবাইল ফোনে তাঁকে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি জানানো হয়।

তিনি বলেন, এই ভাতা সরকার আমাকে ব্যক্তিগতভাবে দেয়। এটি আমার প্রাপ্য। আমি তা মসজিদ ফান্ডে দিতে রাজি হইনি — এরপরই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফিরোজ ভিন্ন কারণ দেখান। তাঁর দাবি, সরকারি ভাতার বিষয়টি এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ নয়।

তিনি জানান, নিয়োগের সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইমামের তেলাওয়াত সন্তোষজনক না হওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, ইমাম রুহুল আমিন কেবল জোহর ও আসর — এই দুই ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন, বাকি তিন ওয়াক্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে অন্য একজন ইমামকে।

সভাপতি আরও জানান, এই ব্যবস্থায় ইমাম রুহুল আমিনের মূল বেতন ১০ হাজার টাকার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার টাকা নতুন ইমামকে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি স্পষ্ট জানানো হয়, সরকারি সম্মানি ভাতা তিনি নিজেই রাখবেন — সেটি মসজিদ ফান্ডে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে এই প্রস্তাবে ইমাম রাজি না হওয়ায় এবং বেতন কাঠামো নিয়ে মতভেদ আরও গভীর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

মসজিদের খতিব মুফতি গোলাম রব্বানী বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য দুই রকম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও বিস্তারিত জানি না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধুনটের ফিল্ড সুপারভাইজার মীর আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি সম্মানি ভাতা ইমামের বেতনের বাইরে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সরকার ব্যক্তিগতভাবে প্রদান করে। এই অর্থ মসজিদ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নয় এবং ইমামকে তা ফান্ডে জমা দিতে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি জানান, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক (ডিডি) মৌখিক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আলাদাভাবে অভিযোগ করেছেন। আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়ের কাছে থেকে শুনেছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা একটি পুরনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে — সরকারি ভাতা সরাসরি ইমামের নামে বরাদ্দ হলেও স্থানীয় মসজিদ কমিটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো স্পষ্ট নীতিমালা নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভাতা দেয়, কিন্তু ইমামের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার — তা এখনও অস্পষ্ট। ফলে ইমামরা একদিকে সরকারি সুবিধাভোগী, অন্যদিকে কমিটির ইচ্ছাধীন কর্মী — এই দ্বৈত অবস্থানই বা

রবার বিরোধের জন্ম দিচ্ছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।