শূন্য ক্যাম্পাস পাচ্ছে পূর্ণতা
পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে ত্যাগের মহিমায় গেল ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ইদুল আজহা উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে বন্ধ ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। টানা ১২ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে গতকাল (৪ জুন) বৃহস্পতিবার।
আগামী রোববার সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম। একই সঙ্গে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, সেই সাথে প্রতিটি বিভাগে শুরু হবে ক্লাস-পরীক্ষা। তাই ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ আশপাশে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা ফিরছেন আপন ক্যাম্পাসে। শূন্য ও নীরব হয়ে যাওয়া তেইশ শ একরের ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: ৮ গোরু ও ২ খাসি নিয়ে চবি ছাত্রশিবিরের আয়োজন ‘আইয়্যো ঈদ’র গোস্ত হাই’
সরেজমিন দেখা যায়, ইদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসের মূল ফটক দিয়ে থেকে থেকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের চিত্র চোখে পরার মতো। প্রতিবার শহর ফেরত শাটলট্রেন থেকে ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে ক্যাম্পাসের ট্রেনস্টেশনে নামছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ক্যাম্পাসে ফেরা একগুছ শিক্ষার্থীর পদচারণা দেখা গেছে। এসময় ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ি উত্তরবঙ্গে, তবে এবার ইদে সেখানে যাওয়া হয়নি। ঢাকায় আব্বু আম্মুসহ আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে ইদ করেছি। ঢাকায় অনেক গরম পড়েছে, আর এদিকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ বেশ ঠাণ্ডা, তাই ক্যাম্পাসে চলে আসলাম।
আরও পড়ুন: চবিতে ছাত্রদলের ‘নিমগাছ’ রোপণ
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ের একটু আগে কথা হয় মাহবুব ও আতিক নামের দুই শিক্ষার্থীর সাথে। তারা বলেন, আগামী ৭ তারিখ আমাদের বিভাগের পরীক্ষা। তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছি।
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রিফাতের বাড়ি বগুড়া জেলায়। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষেরা বোধহয় একটু বেশিই হোমসিকার (গৃহকাতর) হয়। বাড়ির টান, পরিবারের মায়া আর পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে দূরে থাকা তাদের জন্য সহজ নয়। বাড়ি ফিরলে মনে হয়, এই তো আমার আসল ঠিকানা; আর সেই ব্যস্ত, যান্ত্রিক জীবনে ফিরে যেতে একদমই ইচ্ছে করে না। প্রায় আট বছর ধরে বাড়ির বাইরে আছি, কিন্তু এত সময় পেরিয়েও এই অনুভূতি একটুও বদলায়নি।
নুসরাত আরো যোগ করেন, এখনো বাড়ি থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বুকটা ভার হয়ে আসে। প্রথমবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার দিন যেমন কেঁদেছিলাম, আজও ঠিক তেমনই কান্না পায়। ফেরার সময় ঘনিয়ে এলে মন খারাপ হয়ে যায়, আর কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, ‘কবে চিটাগং যাবা?’, তখন তার উপর এত্ত রাগ লাগে। কারণ প্রশ্নটা শুনলেই মনে হয়, আবারও প্রিয় বাড়ি, প্রিয় মানুষগুলোকে ছেড়ে সেই দূরের জীবনে ফিরে যেতে হবে।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।