যাহারা এই পথ ধরিয়া নিত্য যাতায়াত করিয়া থাকেন, তাহারা হয়তো লক্ষ্য করিয়াছেন! পথের কিয়ৎ দূরে ঐযে বিশাল বটবৃক্ষর ন্যয় রসাল, তাহার ছায়াতলে এক প্রবীণ দম্পতি প্রায়ই হাতে হাত রাখিয়া শান্ত নদীর কোমল স্রোতের দিকে চাহিয়া থাকে আর বিড়বিড় করিয়া কি সব বলিতে থাকে। তাহাদের বয়সের ন্যয় নদীও বৃদ্ধ আর দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে। তবে এই নদী চিরকাল এইরূপ ছিলো না। তাহারও প্রমত্তা যৌবন ছিলো এককালে। কূল ভাঙা স্রোত ছিলো। পালতোলা নৌকা ছিলো, দিল্লির স্টিমার ছিলো। তাহারও অনেক অনেক বিশাল বিশাল ইতিহাসের কাহিনী ছিলো। অদ্য আর নদীটির গল্প শুনাইবনা না। অদ্য শুনাইব ঐ হাতে হাত ধরিয়া রাখা হাতের গল্প।
জাবের মিয়ার ছোট্ট সংসার। স্ত্রী, চারপাঁচ বছরের কণ্যা আর জাবের মিয়া। ক্ষেত, খামার, হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল তাহার গৃহে যথেষ্ঠ বিদ্যমান। সংসারে অভাব নাই, তবে বিলাসিতাও নাই। পিতামাতা গত হইয়াছেন বহুকাল আগেই। একখানি ছোট বোন। এগারো বারো বছর বয়সে তাহার বিবাহ দেওয়া হইয়াছিলো নবাবার পেয়াদার সহিত। একজন পুত্র সন্তান জন্ম দিয়া সেও জান্নাতপ্রাপ্ত হইয়াছে। তিন চার বছর শাশুড়ীর সহিত ছিলো। শাশুড়ীর মৃত্যুর পর দেবর-ভাসুরদের সহিত বোঝাপড়া ভালো না হওয়াতে স্বামীর সংসার ছাড়িয়া পিত্রালয়ে ফিরিয়া ভাবির গলার কাঁটা হইয়াছে। উঠতে বসতে সে জাবের মিয়ার কলিজা ছিড়িয়া ফেলে।
যাহার বিবাহের বয়স হয় নায়। সে বিধবা হইয়া আমার প্লেটে বসিয়া আছে। তোমার ন্যয় তাহারও পিতৃ নিবাস। আরো একশ বছর পড়িয়া থাক। তাহাতে আমার কোনো দ্বিধা নায়। কিন্তু যাহার এখনো বিবাহের বয়স পার হয় নায়, সে বিধবা হইয়া আছে, তাহা মানিতে পারিনা। তাছাড়া তাহার পুত্রের সহিত আমার আদরের কণ্যার তুলনা আমি বরদাস্ত করিব না বলিয়া রাখিলাম।
জাবের মিয়া চুপচাপ স্ত্রীর কথা শুনিতে লাগিলেন। অতঃপর দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া বলিলেন, আমার বোন আমার সংসারে বোঝা নহে। আজ আমার কিছু হইলে ভাবিয়া রাখিও তোমাকেও হয়তো তোমার ভাইয়ের সংসারে এমনভাবে দিন কাটাইতে হইতো। আমিও তাহাকে লইয়া চিন্তিত হই। আমিও চাই সে নতুন করে সংসারী হোক। কিন্তু আবু কালামকে ছাড়া সে আন্যের সংসারে যাইতে চাইনা। আর একজন ছেলে সন্তানসহ স্ত্রীকে কে গ্রহণ করিতে চাই? তবে একটা নতুন সম্বন্ধ এসছে, দিল্লির এক সওদাগর। শালিনীকে তাহার পছন্দ। আবু কালামকেও সে নিতে চাহিয়াছে। আগামী বক্রাঈদের আগেই এবিসয়ে একটা ফায়সালা হইবে আশাকরি।
অতঃপর বকরা ঈদ সামনে আসিয়া পড়িল। চারিদিকে কুরবানির হাওয়া বইতে লাগিল। সকলে কুরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে লাগিল। জাবের মিয়া কুরবানির জন্য শাহানারার বড়ো কালো বকরীটাকে স্থীর করিলেন। শুনিয়া তাহার নাওয়া খাওয়া বন্ধ হইয়া গেছে। সন্ধ্যায় প্রিয় ফুফির কোলে মাথা রাখিয়া কাদিতে লাগিল। দু বৎসর পূর্বে তাহার আকিকার সময় নানাজান ছোট্ট একটি ছাগল ছানা উপহার দিয়াছিলেন। আব্বাজান তাহার কুরবানি চকরিতে চাই। আমার প্রিয় বকরী, আমি কুরবানি করিতে দিব না। ফুফিজান তাহাকে আস্বস্ত কিরিয়া বলিলেন, কুরবানি কে না করিতে পারে, তবে শ্রেষ্ঠ কুরবানি সে-ই করিতে পারে যে, সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি কুরবানি করিতে পারে। এ-ই কারনেই তোমার পিতা তোমার প্রিয় বকরীকে পছন্দ করিয়াছেন। আল্লাহর নিকট প্রর্থনা কর। তিনি যেন তোমার কুরবানি কবুল করেন।
মনে কষ্ট পাইলেও, ফুফির প্ররোচনায় প্রিয় বকরীটাকে কুরবানি করিতে তাহার আর কোনো ক্ষোভ রহিল না। মায়ের অবাধ্য হওয়া যায়, তবে ফুফির অবাধ্য সে হইতে পারেনা। বয়সে অপ্রাপ্ত হইলেও বুদ্ধিতে যথেষ্ট পরিপূর্ণ হইয়া উঠিতেছে। এইরূপ গুন তাহার ভেতর বিরল নহে। শিশু কালে যখন হাটিতে শিখিল, সযতনে মায়ের হাতে হাত রাখিয়া সারা বাড়ি দাপাদাপি করিত। অতঃপর বয়স তিন বা চার হয়লে পিতার হাতে হাত রাখিয়া সারা গ্রাম দাপাইয়া বেড়াইয়াছে। হাত ধরা তাহার স্বভাব। ছাড়িয়া দায়মুক্ত হইবার সে নহে। একবার যাহার হাত সে ধরিয়াছে, পরবর্তী বিশ্বস্ত কারো হাত না পাওয়া পর্যন্ত তাহা ছাড়ে নাই। এখন তাহার হাতের সঙ্গী আবু কালামের হাত। তাহার হাতে হাত রাখিয়া সারা এলাকা ঘুরিয়া বেড়ায়। আবু কালামের একটি বিশেষ গুণ বিদ্যমান। বৃক্ষরোপন তাহার শখ। তাহার টিনের বাস্কোর ভিতর যে, কাস্তে -নিড়ানী রহিয়াছে তাহা ব্যবহার করিয়া সে ছোট বৃক্ষ সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো রাস্তার পাড়ে, পুকুর পাড়ে, নদীর ধারে যেখানে পারে সেখানে বসায়া দেয়। ইহার জন্য সে কোন প্রতিদান চাই না। আবার নিজের বৃক্ষ বলিয়াও দাবি করেনা। এই হইল তাহার স্বভাব। কাউকে সে কষ্ট দিইতে চাহে না, আবার কাহারো কথায় কষ্ট পাইওনা। তবে শুধু একটা কথা শুনিলে রাগিয়া যায়। তাহার পিতার মৃত্যু হইয়াছে ইহা সে মানিতে চাই না।
আমার পিতা মৃত্যু বরণ করেন নাই, শহীদ হইয়াছেন। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও দেশের জন্য, জাতির জন্য, ধর্ম রক্ষায় লড়ায় করে গেছেন। আমিও বড় হইয়া পিতার ন্যয় অন্যের সেবায় ব্রত লইব।
কিছুক্ষণ পর আবু কালাম আসিয়া মায়ের পাশে বসিল। হাতে তাহার ছোট্ট একটি টিনের বাক্স। বাক্স সে সঠিক উচ্চারণ করিতে পারেনা। বাসকো বলে। অন্যদেরও তাহাই বলিতে বলে, তাহাতে নাকি উচ্চারণ সহজ হয়। বাস্কোর ভেতর তেমন বলিতে কিছুই নাই। বাবার স্মৃতি একখানা সেপায়ী টুপি – যাহা সে সারাক্ষণ মাতায় করিয়া সারা গ্রাম দাপাইয়া বেড়াই, বৃক্ষ রোপনের কাস্তে-নিড়ানী, একটা বাঁশের বাঁশি, শাহানারার দেওয়া দুইটি মাটির পুতুল, আর কিছু হিজিবিজি বই খাতার পৃষ্ঠা। বাস্কোর ভিতর আর একটা জিনিস বিদ্যমান! ঐ-যে নদীর পাড়ে কয়েকটি মাঝি বাড়ি আছে না! তাহাদের একটা কলো বর্ণের কণ্যা আছে, সোহিনী। চারাগাছ কুড়াইতে কুড়াইতে তাহার সহিত পরিচয়। তাহার দেওয়া একখানা কালো তাগির মাদুলি সে বাসকোর ভেতর লুকাইয়া রাখিয়াছে। শাহানারা জানিলে লঙ্কাকান্ড ঘটাইয়া ফেলিতে পারে। সোহিনীর সাথে তাহার খেলার সাথী মিশিবে, এ তাহার পছন্দ নহে। একবার কামড়িয়ে সোহিনীর দক্ষিণ হস্তের শাহাদাত আঙুল ফাটিয়ে দিয়েছিল সে। তাই শাহানারাকে না জানাইয়া মাদুলিটি টিনের বাসকোর ভেতর লুকাইয়া রাখিয়াছে। এগুলোই তাহার নিত্য খেলার সাথী।
আচরণে সে অভদ্র নহে। শান্ত কোমল, মাতৃভক্ত আর দ্বীনদারি স্বাভাবের। তাহারা যে মামা বাড়িতে আশ্রিত তাহা বুঝিতে আবু কালামের বাকি থাকে না। পিতার অবর্তমানে মামা তাহার একমাত্র অভিভাবক। তাই মামির ছোট খাটো অভিযোগ সে মাথা পাতিয়া লয়।
মায়ের সম্মানের কথা ভাবিয়া সে সবকিছু চুপ করিয়া মানিয়া লয়। আজ গম্ভীর দৃষ্টিতে কিয়ৎক্ষণ মায়ের দিকে চাহিয়া রইল। অতঃপর বলিল, মামা কুরবানি করিতে চাই। আমরাও কি কুরবানি করিব মা।
একথা শুনিয়া তাহার মা কিছুক্ষণ চুপ রহিল। কেন করিবনা বাবা। সময় হইলে এবং আল্লাহ চাইলে অবশ্যই করিব।
আমরাও কি বকরী কাটিয়া কুরবানি করিব নাকি গরু-মহিষ বা অন্য কোনো পশু।
শুধু পশু কাটিলেই কুরবানি হয়না বাবা। প্রিয় জিনিস কুরবানিই বড় কুরবানি। শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করিতে হয় তবে যাহার কুরবানি আল্লাহর পাশাপাশি অন্যর সন্তুষ্টির কারন হইয়া যায় তাহার কুরবানি শুধু পশু করবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
ঈদের দিন মামার সহিত ঈদের নামাজ শেষ করিয়া বাড়িতে ফিরিয়া আবু কালাম দেখিল, দুয়ারে ছোট্ট একটা জটলা পাকিয়ে গিয়াছে। আশপাশের নারী-মহিলারা এঘর ওঘর ছুটাছুটি করিতে লাগিল। কোনরুপ বিষয়বস্তু বুঝিতে না পারিয়া, ধীরে ধীরে সে মায়ের ঘরের দিকে ছুটিয়া আসিল। তাহার জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় সেই স্থানেই রচনা হইতেছিল। গৃহে প্রবেশ করিয়া স্ব চোক্ষে দেখিল, শয়ন চৌকির উপর তাহার মা চুপটি করিয়া বসিয়া রহিয়াছে। তাহার পরনে নতুন বিবাহ পরিচ্ছদ। গোয়ালিনী মাজননী তাহার রাণী রুপে অবতীর্ণ হইয়াছে। নিজের মা। জীবন ভর এত সুন্দর সাজে সজ্জিত অবস্থায় মাকে সে কখনো দেখিয়াছে কি ঠাওর করিতে পারিলনা।
কিয়ৎক্ষণ বাদ কংসমামি হাজির হইয়া বিষয়টি স্পষ্ট করিল। আজ তাহার মায়ের নিকাহ। পুত্র মনে কষ্ট পাইতে পারে ভাবিয়া তাহাকে কিছুই অবগত করানো হয় নাই। আর হইলেও বা কি। ছয় সাত বছরের অবুঝ সন্তান! বিবাহের সে কি বুঝিবে। তবে এতটুকু বুঝিল যে অগত্যা মামির সংসারে তাহারা যে জোর যবরদস্ত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ভাতের হাড়িতে দখলবাজি করিতেছিলো, তাহার অবসান হইতে চলিয়াছে।
কি যেন অজানা ভাবনায় মনে মনে সে কিছুটা প্রফুল্লচিত্তে জানালার কপাট সরায়া চৌকির নিচ হতে টিনের বাস্কোটাকে টানিয়া দহলিজের দিকে চলিয়া গেল। সারাবাড়ি তন্নতন্ন করিয়া তাহার পছন্দের জিনিসগুলো একটা একটা করিয়া বাস্কে ভরিয়া আনন্দচিত্তে নিজেকে প্রস্তুত করিতে থাকিল। যথাসময়ে বিবাহ কার্য সম্পূর্ণ হইলে বরযাত্রী নদীর দিকে যাত্রা করিল। উপযুক্ত সময়ে স্টিমারে চড়িতে না পারিলে, দুপুরের দিল্লির ট্রেন মিস হইয়া যাইবে। নদীর ঘাটে স্টিমার প্রায় আসিয়া পড়িয়াছে। দূর হইতে তাহার ভটভট শব্দ কানে আসিতেছে। এমন সময় পিটপিট করিয়া আবু কালাম তাহার মায়ের বামপাশে গিয়া দাড়াইল, ডানপাশে তাহার সদ্য বিবাহিত স্বামী। শালিনী একবার তাহার নতুন স্বামীর দিকে চোখ তুলিয়া চাহিল।
সওদাগর বাবু বিড়বিড় করিয়া বলিলেন, আমার পরিবারে তোমার পূর্বের বিবাহের বিষয় অবগত করিনায়। আমার উপর ভরসা রাখিতে পার, সবকিছু ঠিক হইয়া যাইবে। আগামীবার যখন আসিব, তখন তাকে অবশ্যই নিয়া যাইব। সে এখানেই থাকুক বা যেখানেই। সে আমার সন্তান হয়েই থাকিবে,আর আমি তাহার পিতা।
তাহার কথা শুনিতে তাৎপর্যপূর্ণ হইলেও তা শালিনীর মন গলাইতে পরিলনা। ঘাটে স্টিমার আসিয়া থামিল। সকলে সামনে এগিয়ে যাইবার জন্য উদ্ধত হইলেও শালিনী দুকদম পিছিয়ে গেল। জীবনের চরম সীদ্ধান্তে তাহার ভুল হইয়াছে। আর কোনো ভুল সে করিতে চাহেনা।
এমন সময়ে হাজির হইল বরের মামি। স্বর্ণালংকারে আচ্ছাদিত বিশাল শরীর। দানবীর মত বড় বড় দন্ত প্রশস্ত করিয়া জিজ্ঞাসা করিল।
এই ছেলে কে?
এক পলকেই সবাই বিস্মিত হইয়া গেল। এমন পরিস্থিতি তৈরি হইতে পারে এমনটা কেহ কল্পনাও করে নাই। তাহার বচনাভঙ্গী স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, আবু কালামের উপস্থিতি তাহার কাম্য নহে। অথচ জাবের মিয়া আগে থেকেই স্পষ্ট জানাইয়া দিয়াছিলেন, আবু কালামকে নিতে রাজি না হইলে তাহার বোন বিবাহে সম্মত হইবে না। তবে কি তাহার স্ত্রী অন্য কোনো চাল চালিয়াছে।
পরিস্থিতি এমন হইল যে, কাহারো মুখে কোনো কথা ফুটিলনা। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করিতে কংসমামী বিচক্ষণ দূরদর্শিতা প্রদর্শন করিল। তিনি লক্ষ্য করিলেন, শাহানারা আবু কালামের হাত ধরিয়া দাড়ায়া আছে। অস্পষ্ট কণ্ঠে বলিলেন। সে শাহানারার খেলার সাথী। তাহাদের মধ্যে যথেষ্ট ভাব বিদ্যমান। আশাকরি আগামীর দিনগুলোতে তাহার কোনো রুপ অসুবিধা হইবে না।
তাহার এই বাক্যে আস্বস্ত হয়ে সবাই নীরব রহিল। শালিনী ধীর কদমে স্টিমারের দিকে নতুন স্বামীর হাতে হাত রেখে এগিয়ে গেল। নির্বাক দর্শক আবু কালাম স্তব্ধ হইয়া সেই দিকে চাহিয়া রইল। একবার সে মামীর দিকে চাহিল, একবার মায়ের প্রস্থানের দিকে।
অতঃপর দীর্ঘক্ষণ কাটিয়া গেল। সবাই নদীপাড় হইতে ফিরিয়া গিয়াছে। তথাপি আবু কালাম নদীর পাড়ে তাহারই রোপিত ছোট্ট রসালের পাশে দাঁড়ায়া রহিল। নদীর জলে তাহার টিনের বাস্কোখানি কম্পিত ভাঙ্গা হৃদয়েের ন্যয় তুলতুল করিয়া দুলিতে লাগিল। অদ্য নদীর স্রোত তাহার হৃদয় স্রোতে স্থানান্তরিত হইয়াছে। যে কারণে এইরূপ ক্ষুদ্র বাস্কো পর্যন্ত স্রোতে টানিয়া লইতে পারে নাই। তীক্ষ দৃষ্টিতে নদীর দিকে তাকাইয়া আবু কালাম স্তব্ধ হৃদয়ে বিড়বিড় করিয়া নিজের সহিত অজানা তর্কে মত্ত হইয়া রইল। কিয়ৎক্ষণ বিলম্বে শাহানারা আসিয়া তাহার হাত ধরিয়া পিছনে টানিতে লাগিল।
তাহাদের তর্কসমূহ দূর হতে স্পষ্ট শ্রবণ হইল না।
হাত ছাড় শাহানারা।
না, ছাড়িব না। বাড়ি চলো ভাইজান, কুরবানি করিবে না।
না! তাহার আর দারকার হইবে না। আমার সকল কুরবানি সম্পূর্ণ হইয়াছে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।