বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা। উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি বিলীন হওয়া এবং গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ড্রামের নৌকার ওপর শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বাঙালি নদীর পূর্ব তীরে বালু ফেলে স্তূপ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এই বালু ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদীসংলগ্ন ফসলি জমিগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া বালু পরিবহনের জন্য ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার কাঁচা-পাকা গ্রামীণ সড়কগুলো দেবে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন এই কর্মকাণ্ড চললেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুজ্জামান জানান, বাঙালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন,
“আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি এবং এরই মধ্যে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) অবহিত করেছি। খুব দ্রুতই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।