পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় চিলমারী উপজেলার পাত্রখাতা হরিছরি স্লুইসগেট এখন বন্যার পানি নিয়ন্ত্রনে অক্ষম হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে জলকপাট সহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে মরিচা ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এমনকি গত ২৬ জানুয়ারী/২০২৬ ইং রাতে বর্তমান স্লুইস গেটটির নাটবল্টু খুলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলকপাট চুরি করার চেষ্টা চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। জানাগেছে, চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের চর পাত্রখাতায় এলাকার হরিছড়ি খালের উপর ১৯৭৬-৭৭ অর্থ বছরে ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ ভেন্টের এই স্লুইস গেটটি নির্মাণ করা হয়। স্লুইস গেটে টিতে রয়েছে ১২টি কপাট যা, দ্রুত পানি নিষ্কাশন করতে সক্ষম হলেও এখন অচলাবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, রক্ষনা-বেক্ষনের অভাবে প্রতিটি দরজা ও দরজা খোলার যন্ত্রাংশ গুলোতে মরিচা ধরে বর্ষা মৌসূমে বিপত্তি সৃষ্টি করে। ১৯৮৮ ইংসনের ভয়াবহ বন্যায় মোটামুটি সচল থাকলেও ২০১৯ সালে ১২ ভেন্টের এই গেটের মাত্র ৬ টি কপাট খোলা সম্ভব হয়েছিল। ফলে চিলমারী উপজেলা পরিষদ সহ গোটা উপজেলা প্রায় এক মাস জলাবদ্ধতায় তলিয়ে থাকে। সে সময় উপজেলা চত্বরে হাটুর উপর পানিতে দাড়িয়ে নতুন আরেকটি ১২ ভেন্টের স্লুইস গেট নির্মাণের দাবীতে মানব বন্ধন করা হয়েছিল। পুরাতন স্লুইস গেটটি মেরামত করে পুরোপুরি সচল করা ও আরেকটি নতুন স্লইস গেট নির্মাণের দাবী আজ অবধি পূরণতো হয়নি, উপরন্তু পুরাতনটি অকেজো থাকায় চিলমারী বাসীর উপর আসন্ন বর্ষা মৌসূম খড়ার উপর মরার ঘা হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। প্রশাসনের অবহেলা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় জনদূর্ভোগ বন্যায় চরম আকার ধারন করার আশংকা করেছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের কিসে সমস্যা হয়, কোনটাতে দূর্রদশা বাড়ে তা বুঝতে না পারায় বছরের পর বছর এসব স্লুইস গেট হতে উপকারের চাইতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকতাগনের দায়সারা দায়িত্ব পালন, আমলাতান্ত্রিক প্রভাব এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে ব্যহত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার মানুষের জন্য এই স্লুইসগেটি একটি আর্শীবাদ। তবে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে তা অভিশাপে পরিনত হয়েছে।
পথচারী আশরাফ আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, বহু আগে এই ব্রিজ তৈরী করা হয়েছে। এই ব্রিজের যে ১২ টা গেট রয়েছে, মেরামতের অভাবে বন্যা কালীন সব গুলো গেট খুলত না পারায় আমাদেরকে পানিতে ডুবে থাকতে হয়। আজ দেখলাম তার একটা গেট কারা যেন ভেঙে ফেলেছে। এই গেট চুরি হলে তো আমরা মুসকিলে পরে যাবো।
বিষয়টি নিয়ে রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম আঁশেক আকা জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরে তৎক্ষনাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়েছি। তা ছাড়াও গেটটি মেরামত করা প্রয়োজন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সরিফুল ইসলাম জানান, আমি সকালে বিষয়টি অবগত হয়েছি। সেটি নিয়ে তদন্তের চেষ্টা করছি বিকালে সরেজমিনে পরিদর্শন করবো। স্থানীয় সচেতন মহলের আব্দুল বারী সরকার বলেন, বর্তমান স্লুইস গেটটি সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দাবী করছি। দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সুবিরধার্তে ও উপজেলা সদরকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাচাতে নতুন আরেকটি স্লুইস গেট নির্মাণে জনগনের দাবীকে তুলে ধরেছেন।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।