শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
অন্যান্য

চিলমারী নদী বন্দরের হারানো গৌরব জেগে ওঠার আর কত অপেক্ষা

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত কুড়িগ্রামের চিলমারী এক সময় ছিল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর। যদিও অনেকের মুখে শোনা যায়—প্রাচীনকালে এখানে জাহাজ নির্মাণ কারখানা ছিল—তবে ইতিহাস ও দলিলভিত্তিক তথ্যে জানা যায়,  ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী বাণিজ্যকেন্দ্র।

ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতক তথা প্রায় ৩০০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান চিলমারী অঞ্চল ছিল মূলত নদীনির্ভর জনপদ। তখন এখানে কৃষি, মৎস্য ও নৌকাভিত্তিক জীবনযাপন গড়ে উঠলেও কোনো সংগঠিত বন্দর কিংবা জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। স্থানীয়ভাবে কাঠের নৌকা ও ডিঙি তৈরি হলেও তা ছিল পারিবারিক বা গ্রামভিত্তিক উদ্যোগ।

চিলমারীর প্রকৃত গুরুত্ব বাড়তে শুরু করে ব্রিটিশ শাসনামলে। উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রহ্মপুত্র নদ ছিল বাংলা ও আসামের প্রধান নৌবাণিজ্য পথ। সে সময় চিলমারী নদী বন্দর হয়ে ওঠে পাট, চাল, তামাক, সরিষা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্রিটিশ স্টিমার কোম্পানির বড় বড় নৌযান নিয়মিত ভিড়ত এই বন্দরে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি এখানে নৌযান মেরামত এবং বড় কাঠের নৌকা ও বজরা নির্মাণের কাজও হতো।

পাকিস্তান আমলের শুরুতে চিলমারী বন্দর সক্রিয় থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীপথ পরিবর্তন, নাব্যতা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে এর গুরুত্ব কমতে থাকে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আমলেও বন্দরটি ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে। বিগত  আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে পূনরায়  চিলমারী নদী বন্দর ঘোষনা করে আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম শরু করা হয়। কিন্তুু ৫আগষ্ট/২০২৪ ইং এর পরবর্তিতে দেশের প্রক্ষাপট বদলে গেলে উক্ত নির্মাণ কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। বর্তমান অন্তবর্তি সরকারের আমলেও অবকাঠামো কার্যক্রম অনেকটাই ঢিমেতালে চলমান রয়েছে। 

বন্দরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত ও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দরের কার্যক্রম শুরু করা হলেই নতুন করে চিলমারী নদী বন্দর তার হারানো ঐতিহ্য  ফিরে পাবে বলে সচেতনমহলের ধারনা।নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাব্যতা রক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে চিলমারী আবারও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।