শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
সারাদেশ

নেত্রকোনার সবজির বাজারে আগুন, কাঁচা মরিচের ট্রিপল সেঞ্চুরি

বৃষ্টি ও সরবরাহ কমে যাওয়াসহ নানা অজুহাতে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার কাঁচাবাজার। বর্তমান বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকার ওপরে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম যা বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩২৫ টাকা দরে।

 

সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি আলু- ৩০ টাকা, বেগুন- ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো- ১৪০ টাকা,  করলা- ১০০ থেকে ১১০ টাকা, পটল- ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, ঢেঁড়স- ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল- ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, ঝিঙা- ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা- ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং শসা- ৭০ থেকে ৮০, মিষ্টি কুমড়া- ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে- ৩০ টাকা, বরবটি- ৮০ থেকে ১০০ টাকা, এছাড়া কচুর লতি, কাঁকরোল, কচু, ধুন্দুলসহ প্রায় সব ধরনের সবজি মিলছে না ৮০ টাকার নিচে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। কয়েক দিন আগেও যে মরিচের দাম নাগালের মধ্যে ছিল, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩২৫ টাকা কেজি দরে। ক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ খানেক আগেও যেসব সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনেছি, সপ্তাহ ব্যবধানে সেসব সবজিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকারও বেশি দামে। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দাম বাড়ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়লে সবজির দাম আবারও কমতে শুরু করবে।

 

কথা হয় জেলা সদরের রেলগেইট এলাকার বাজারে সবজি কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক নয়ন মিয়া, বেসরকারি চাকুরিজীবী আব্দুল হান্নান, বড়  বাজারের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল মিলন রায়, ব্যাংকার সেলিম রেজা, ভ্যান চালক সোনা মিয়া ও অটোরিকশা চালক আব্দুল গফুরের সাথে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। যেসব সবজি আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কেনা যেত, এখন সেগুলোর জন্য ১০০ টাকা বা তার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামের অবস্থা তো আকাশচুম্বী। কাঁচা মরিচ কিনতে এসে দেখি এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) মরিচের দাম ৮০ টাকা। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও একই পরিমাণ মরিচ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কিনেছি। শুধু মরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সংসার চালানো এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

তারা আরও বলেন, বৃষ্টির দোহাই দিয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম। বাজারে গিয়ে সবজিতে হাত দিলেই মনে হচ্ছে দামের আগুনে পুড়ে ছারখার হওয়ার মত অবস্থা। হঠাৎ বৃষ্টির দোহাইয়ে সবজির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেল। অথচ আমাদের এলাকায় বন্যা নেই, সবজি খেতও নষ্ট হয়নি। তারপরও এত পরিমান দামে হিমসিম অবস্থা। বাজারে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।

 

দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে কথা হয় মেছুয়া বাজারের সবজি বিক্রেতা ইদ্রিস মিয়া, বড় বাজারের জব্বার শেখ ও লিটন দাসের সাথে তারা বলেন, টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের অনেক সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কমেছে এবং অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম।

 

বাজার সংশ্লিষ্টদের আশা, বৃষ্টি কমে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে সবজির বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে। টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সবজির দাম বেড়েছে। তবে কোনো ব্যবসায়ী যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের বনিক সমিতির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।