শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
ছোট গল্প

মায়াপুরী দ্বীপ

গহিন সুন্দরবনের ভেতরেও আনেক সুন্দর সুন্দর দ্বীপ অছে। যারা কখনোই সেখানে যাইনি তারা সেই সৌন্দর্য অনুভব করতে পারবে না। একবার একদল যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন সমুদ্র তীরের এমন একটা দ্বীপে পৌছালো। ভয়ংকর সুন্দর, বিপদসংকুল মায়াপুরী দ্বীপ। চারিদিকে নিস্তব্ধ হিমশীতল হাওয়ার মেলা। বাতাসে নিশ্বাস ফেলছে সাপ, বিচ্ছু, দানবীয় কুমির আর নিশাচর মাংসাশী বাঘের ছায়া।

সেখানে একটা ছোট্ট ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর দেখে তারা অবাক হলো। এমন দূরবর্তী, সংকটাপন্ন এলাকায় মানুষের বসবাস অসম্ভব। হয়তো জেলে-মৌয়লরা তাদের বিশ্রামের জন্য অথবা দুষ্টচক্রী চোর ডাকাতরা আত্মগোপনের জন্য এখানে আস্তানা গেড়েছে।

জায়গাটির অনুপম সৌন্দর্যের কারনে পর্যটকদল সেখানেই কাফেলা স্থপন করল। সময়ের ব্যবধানে তারা এবিষয়েও অবগত হলো যে সেখানে একজন ষাটোর্ধ পুরুষ একাকী বসবাস করেন। এমন জনমানবশূন্য নির্জন স্থানে জীবন যাপনের কারণ জানতে তারা উদগ্রীব হয়ে উঠল।

তাদের মধ্যে শান্ত, ভীরু ও বোকাটে স্বভাবের মহিদুল নামে একটা ছেলে ছিলো। সে মধ্যে মাঝে প্রবীণ লোকটার পাশে গিয়ে বসতো। জানতে চাইতো কেন এবং কিভাবে সে এমন দূর্গম এলাকায় এসে বসবাস করে। 

কয়েকদিনের মধ্যে বৃদ্ধ লোকটার সাথে তাদের খাতির জমে উঠলো। একদিন তারা লোকটির মুখেই জানতে পারলো তার এখানে অবস্থানের কারণ।

নাম তার নিবারণ। যৌবনে কল্পনা নামে কাউকে ভালোবেসে তার সাথে সংসার পাততে চেয়েছিল। মেয়েটিও তাকে ভিষন ভালোবাসতো। এই ছেলেদের মত করে একদিন তারাও এই দ্বীপে ঘুরতে এসেছিলো। তাদের সাথে ছিলো আরো তিন চারজন সহযোগী। তারা সবাই মিলে শহরে একটা বড় ব্যবসা শুরু করেছিল। যার কাছে ব্যবসায়ের সকল হিসাব নিকাশ, টাকা পয়সা থাকতো সেও উপস্থিত ছিলো তাদের সাথে।

আমরা যেমন খুশি, যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতাম। তোমাদের মত আমরাও একদিন ঘুরতে ঘুরতে এই দ্বীপে এসে পৌছাই। এই দ্বীপের মায়াবী পরিবেশ আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে। তার মোহমায়াছলে দিনের পর দিন কেটে যায়। সবকিছুর যেমন শেষ আছে, আমাদের ভ্রমণেরও তেমন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা আমরা শেষ করতে পরলাম না। কোনো ভাবেই দ্বীপের বাইরে যেতে পারলাম না। একদিন যদি কেউ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতো, অন্যদিন তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পেতাম। কোনো এক অজানা বিভীষিকা আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। অবশেষে বুঝতে পারলাম এই মায়াবী দ্বীপ আমাদের কাউকেই কোথাও যেতে দেবে না। এক ছলনাময়ীর লালসার মায়াবী ছলে আমরা সবাই আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম।

বহু কষ্টের পর আমি আর কল্পনা পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। কিন্তু তা আর হলো না। অবশেষে তাকে একটা ভাঙা নৌকায় ভাসিয়ে বিদায় দিলাম। আর আমি চিরদিনের জন্য এখানে থেকে গেলাম। সে হয়তো দূর শহরে পৌঁছে গেছে। আমার কল্পনার আলো হয়ত শহরের কোনো বড় ব্যবসায়ীর ঘর আলোকিত করে আছে। লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো বলতে বলতে ছোটো খালপাড়ের পাশে বড় বটগাছটার দিকে চলে গেলো।

যুবকদল যেদিন ঐ দ্বীপ ছেড়ে চলে আসছিলো, সেদিন অনেকেই তাকে সাথে আনতে চেয়েছিলো। কিন্তু সে আসেনি। সবকিছু হারিয়ে বাকিটা জীবন সে এখানেই থাকতে চাই। ফেরার সময় লঞ্চের উপর বসে মহিদুল লোকটার জন্য খুব আফসোস করছিলো। তার পাশেই বসে ছিল নিরঞ্জন। মেধা, বুদ্ধি আর চিন্তাশীলতার কারনে দলে সবাই তাকে পছন্দ করে। এতদিন চুপ থাকার পর এবার সে তার যুক্তি উপস্থাপন করল:

আমার চিন্তা শক্তি আর অর্জিত গবেষণা বলছে, তার সাথে মায়াবী কিছু ঘটেনি। তার সাথে প্রতারণা হয়েছে। ধোকা হয়েছে তার সাথে। তোমরা কি লক্ষ্য করনি। লোকটা জানে তার প্রেমীকা শহরে কোনো ব্যবসায়ীর স্ত্রী। তাছাড়া বটতলায় কি দেখেছো? সেখানে সে তার মৃত্যুবরণ করা প্রত্যেকটা বন্ধুর জন্য একটা করে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করেছে। সেখানে দাড়িয়ে সে প্রতিদিন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে। অথচ সেখানে তার ব্যবসায়ী বন্ধুর কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নেই। সম্ভবত তার প্রেমীকা তার সাথে প্রতারণা করেছে। আর যখন তার বন্ধুরা এ ব্যাপারে জানতে পারলো, তখন তাদের জীবন হারাতে হয়েছে। তাছাড়া আমরাওতো এই দ্বীপেই ছিলাম, বের হয়েও এসেছি। আমাদের তো কোনো সমস্যা হয়নি। আমাদের এখানে আবার আসতে হবে। আসল রহস্য আমাদের অবশ্যই উদঘাটন করতেই হবে।

হ্যা, তুমি টিকই বলেছ! আমাদের আবার ফিরে আসতে হবে! আর আমরা আবার ফিরে এসেছি! গত তিনঘণ্টা ধরে আমরা বারবার এখানেই ফিরে আসছি। কিছুতেই বের হয়ে বাইরে যেতে পারছি না। সব পথ ঘুরেফিরে এই জায়গাতেই এসে হয়েছে। ভয়ংকর রহস্যময়ী মায়াবী কণ্ঠে উত্তর দিল লঞ্চের সারেং।

ছোট গল্প থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।