দেশের এমপিও (Monthly Pay Order) হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি আর্থিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি-অবশ্যই সরকারের এমপিওকোডপ্রাপ্ত) অনুমোদিত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জাতীয় পে-স্কেলাধীন নির্ধারিত অংশ সরকার নিয়মিত প্রদান করে।
এমন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট কাটাতে বড় নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নবম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে (ই-রিকুইজিশন) পাওয়া শূন্য পদের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৭৫ হাজার ৭৬৯টি পদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের জন্য সংরক্ষিত এবং অন্যান্য কারণে কিছু পদ বাদ দিয়ে ৬৯ হাজার ৫৭৭টি পদে নিয়োগের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
এনটিআরসিএর সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক জানিয়েছেন, নবম শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর দ্রুত নিয়োগ-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে সরাসরি সুপারিশের পরিবর্তে লিখিত প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরই এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের জন্য সনদ দেবে।
চাকরিপ্রার্থীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় থাকা নিবন্ধনধারীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর। বিশেষ করে ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হলেও সুপারিশ না পাওয়া এবং নতুন নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা হাজারো প্রার্থীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
এর আগে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৬৭ হাজার ৮৭টি শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অষ্টম গণবিজ্ঞপ্তিতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারসহ ১২ হাজার ৯৫১টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পরিচালনা করছে এনটিআরসিএ। আর ২০১৫ সালের শেষ দিকে সরকারি সুবিধাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির পরিবর্তে এনটিআরসিএর হাতে ন্যস্ত করা হয়। এরপর থেকে সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
শিক্ষাবিদদের মতে, সময়মতো নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গেলে দেশের সরকারের আর্থিকাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট অনেকটাই দূর হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।