নারীদের কু-প্রস্তাব ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টার অভিযোগে দ্বিতীয়বারের মতো বিতর্কে জড়ালেন বগুড়ার ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান। থানায় সেবা নিতে আসা এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশে এই আদেশ কার্যকর হয়।
ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস শুকুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনিক কারণে এসআই মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এই “প্রশাসনিক কারণ”-এর আড়ালে যে অভিযোগ লুকিয়ে আছে, তা স্থানীয় সূত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় সেবা নিতে যাওয়া এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ডও তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এটাই প্রথম নয় — এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ধুনট থানায় যোগদানের পূর্বে বগুড়া সদর থানায় কর্মরত থাকাকালীনও একই ধরনের অভিযোগে বিতর্কে জড়ান তিনি। সে সময় বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বদলি করে ধুনট থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু বদলির পরও একই ধরনের অভিযোগ ফিরে আসায় প্রশ্ন উঠেছে তার আচরণগত পরিবর্তন নিয়ে।
একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার নারীদের কু-প্রস্তাব ও অনৈতিক সম্পর্কের চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিয়েও। শুধু বদলি বা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে সাময়িক সমাধান হলেও স্থায়ী প্রতিকার মিলছে না বলে মত সংশ্লিষ্টদের।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।