শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
সারাদেশ

ঈশ্বরগঞ্জে চলাচলের অযোগ্য রায়বাজার–ফতেনগর গ্রামীণ সড়ক, ভোগান্তিতে জনজীবন

দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই সংস্কারের অভাবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রায়বাজার–মধুপুর–ফতেনগর গ্রামীণ সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি সেবাসহ জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অধিকাংশ অংশই কাদা, গর্ত ও জলাবদ্ধতায় ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পিচ্ছিল কাদার স্তরে ঢেকে যায়। কোথাও কোথাও রাস্তার মূল অংশ চিহ্নিত করাই কঠিন হয়ে পড়ে। যানবাহনের চাকার গভীর দাগ, জমে থাকা পানি এবং ভেঙে পড়া রাস্তার দুই পাশ চলাচলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, সাইকেল এমনকি পথচারীদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে হেঁটে চলাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সামান্য অসাবধানতায় পিছলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের জন্য সড়কটি এখন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র রায়বাজারকে ঘিরে প্রতিদিন কৃষিপণ্য, মাছ, গবাদিপশু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় ধরনের বেচাকেনা হয়। তবে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে, পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে।

এলাকাবাসী জানান, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছেন, ফলে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় এবং সড়কের অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে উঠছে।

সচেতন মহলের মতে, রায়বাজার–ফতেনগর সড়কটি শুধু একটি গ্রামের যোগাযোগপথ নয়; এটি আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। তাই দ্রুত টেকসই সংস্কার, কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একটাই দাবি—রায়বাজার–ফতেনগর গ্রামীণ সড়ক দ্রুত টেকসইভাবে সংস্কার করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা হোক, যাতে এই অঞ্চলের জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও নতুন গতি ফিরে পায়।

সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।