বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের ছোনপচা গ্রামে মাজার নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২২ জুন) উভয় পক্ষের মধ্যে আয়োজিত ধর্মীয় বাহাছে কোরআন ও হাদিস অবমাননার অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি বিস্ফোরণমুখী হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় তৌহিদী জনতা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
স্থানীয় আলেমদের সূত্রে জানান, ২০২৫ সালে ছোনপচা গ্রামের শহিদুল ইসলাম মারা যান। তার অনুসারীরা তাঁকে পীর দাবি করে মাজার নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় আলেম সমাজ আপত্তি জানালে বিষয়টি সাময়িকভাবে থামে। তবে সম্প্রতি মৃতের ছেলে জাকারিয়া ও তার অনুসারীরা নতুন দাবি তোলেন — স্বপ্নে নাকি মাজার নির্মাণের নির্দেশ পেয়েছেন তারা।
এই দাবিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম জানান, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের মাজার নির্মাণ জায়েজ নয়। উভয় পক্ষের মতবিরোধ চরমে উঠলে ধর্মীয় বাহাছের সিদ্ধান্ত হয়।
চিকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জুয়েলের উদ্যোগে দুপুর ২টায় ছোনপচা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাহাছ শুরু হয়। পাঁচজন করে প্রতিনিধির কথা থাকলেও সেখানে দুই শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। তিন ঘণ্টা আলোচনা চললেও কোনো সমাধান আসেনি।
একপর্যায়ে বাহাছ চলাকালে কোরআন শরিফ ও হাদিসের কিতাব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যান আলোচনা সভা ভেঙে দিতে বাধ্য হন।
বাহাছ ভেস্তে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় তৌহিদী জনতা জোরশিমুল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে যাত্রী ছাউনিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ও ধুনটের বিভিন্ন আলেম বক্তব্য দিয়ে কোরআন-হাদিস অবমাননার তীব্র নিন্দা জানান।
জোরশিমুল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সবুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাজার ও ওরসের নামে অনৈসলামিক কার্যক্রম চলে আসছে। স্বপ্নের দোহাই দিয়ে মাজার নির্মাণের চেষ্টা শরিয়তবিরোধী। বাহাছ চলাকালে কোরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট অবমাননা হয়েছে, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছে।
পীর জাকারিয়া সব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, কুফরি, শিরক ও গাঁজার আসরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোরআন অবমাননার অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বীকার করেন, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে।
চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল বলেন, “কোরআন অবমাননার মতো কিছু হয়নি।” তবে ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি স্লিপ অব টাং হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও তরিকতপন্থী। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে দেখব।” এলাকায় এত বড় ঘটনা ঘটলেও পুলিশের অজ্ঞতা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।