তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রোববার রাতে চালানো ইরানি হামলার জবাবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল ইসরাইল।
হরমুজ প্রণালির উত্তাল জলে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে লড়াই করছিলেন দুই ক্রু সদস্য। সেই সংকটময় মুহূর্তে আকাশ থেকে নেমে এল না কোনো প্রথাগত উদ্ধারকারী দল, বরং সাগরের বুক চিরে এগিয়ে এল ‘সারোনিক করসেয়ার’। ২৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সি-ড্রোনটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছুটে গিয়ে উদ্ধার করল পাইলটদের। সামরিক ইতিহাসে এই প্রথম চালকবিহীন কোনো নৌযান মানুষের প্রাণ রক্ষায় এমন নজির গড়ল, যা আধুনিক যুদ্ধশৈলীতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।
পেন্টাগনের নতুন রণকৌশলের অংশ হিসেবে এই সি-ড্রোন প্রযুক্তি এখন মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু। প্রথাগত রণতরীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খরচ কমাতে এবং যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন নৌবাহিনী ২০২১ সালেই গঠন করেছিল ‘টাস্কফোর্স ৫৯’। ঠিক সেই বিশেষ ইউনিটের অধীনেই করসেয়ার ড্রোনগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পাহারা দিচ্ছে। শুধু উদ্ধারকাজ নয়, সমুদ্রের গভীরে মাইন শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে শত্রুর গতিবিধি ট্র্যাক—সবকিছুতেই এখন চালকবিহীন এই প্রযুক্তির জয়জয়কার।
যুদ্ধের মাঠে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল গত কয়েক বছরেই। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে ইউক্রেনীয় সি-ড্রোন যেভাবে রুশ যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল, তা বিশ্ব সামরিক মানচিত্রে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই পথ ধরেই এবার মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ড্রোন বহরকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিতে চায়। পেন্টাগন এখন পরিকল্পনা করছে ভবিষ্যতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার করসেয়ার ড্রোন মোতায়েনের, যা সমুদ্রসীমায় তাদের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করবে।
যদিও এই প্রযুক্তি এখনো তার বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হচ্ছে, তবে হরমুজ প্রণালিতে আজকের এই সাফল্য প্রমাণ করল—আগামীর যুদ্ধক্ষেত্রে সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ কেবল বিশাল বিশাল রণতরীর ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। বরং তা নিয়ন্ত্রিত হবে নির্ভুল সব চালকবিহীন যানে, যেখানে ঝুঁকি কম এবং কার্যকারিতা বহুগুণ বেশি।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।