শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
জাতীয়

বনভূমি দখল বাড়ছে, নীরব হারাচ্ছে রাষ্ট্রের সবুজ সম্পদ: কোথায় ভাঙছে প্রতিরোধ ব্যবস্থা?

বাংলাদেশের সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় আইন রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। তারপরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, গাছ নিধন ও ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ থামছে না। প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্রীয় কাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন বনভূমি দখল বন্ধ করা যাচ্ছে না?

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বনভূমি রক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ শুধু অবৈধ দখল নয়; বরং জনবল সংকট, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং পুনর্দখল ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকাও বড় কারণ।

বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, অনেক বিট ও রেঞ্জ অফিসের আওতায় হাজার হাজার একর বনভূমি থাকলেও দায়িত্ব পালনের জন্য জনবল অত্যন্ত সীমিত। ফলে বিশাল এলাকায় নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ দখলচক্র ধীরে ধীরে বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা চাষাবাদ শুরু করে।

আরও জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ দখল শনাক্ত হওয়ার পরও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি প্রশাসন এবং অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় দখলদাররা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পেয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি একবার দখল হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের চেয়ে দখল প্রতিরোধ করা অনেক বেশি কার্যকর। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ঘাটতির কারণে অনেক অবৈধ কার্যক্রম প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্তই হয় না।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বনভূমি দখলের ক্ষতি শুধু পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ হারানোর আশঙ্কায় পড়ে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট আইনি নির্দেশনা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, প্রাতিষ্ঠানিক আইনি সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনর্দখল রোধে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, বনভূমি রক্ষার বিষয়টি কেবল একটি দপ্তরের দায়িত্ব নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি প্রশাসন, স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে বনভূমি দখল রোধ করা কঠিন হবে।

রাষ্ট্রের সবুজ সম্পদ রক্ষা করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সেই আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দায়িত্বশীল সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় সংরক্ষিত বনভূমি হারানোর ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।