চাকরি, পেশা কিংবা সামাজিক অবস্থান—জীবনের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের মন্তব্য ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। অনেকেই নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দিতে গিয়ে হতাশা, আত্মবিশ্বাসের সংকট ও মানসিক চাপে ভোগেন। সমাজে “মানুষ কী বলবে” সংস্কৃতি তরুণদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সামাজিক বাস্তবতায় দেখা যায়, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হলে কেউ বলেন তিনি সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন; আবার বিসিএসে উত্তীর্ণ হলেও প্রশ্ন ওঠে কেন প্রশাসন, পুলিশ বা পররাষ্ট্র ক্যাডার নয়। শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি হলে শোনা যায়, “আরও ভালো ক্যাডার পাওয়া গেল না?” প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে বলা হয় মাধ্যমিক বা কলেজে কেন নয়; অন্য সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও গ্রেড, পদ কিংবা প্রতিষ্ঠানের তুলনা টেনে সমালোচনা চলতেই থাকে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রবণতা কেবল চাকরির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার বদলে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সেটিই খুঁজে বের করার প্রবণতা সমাজে ক্রমেই বাড়ছে। ফলে অনেক তরুণ নিজের অর্জনের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের লক্ষ্য ও সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। প্রত্যেকের জীবন, সুযোগ ও বাস্তবতা ভিন্ন। তাই তুলনার পরিবর্তে নিজের উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মতে, মানুষের সমালোচনা কখনো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই অযৌক্তিক মন্তব্যে বিচলিত না হয়ে নিজের দায়িত্ব ও লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সচেতন মহলের অভিমত, চাকরি ছোট-বড় নয়; সৎ উপায়ে অর্জিত যেকোনো কর্মই সম্মানজনক। একজন মানুষের জন্য প্রথম প্রয়োজন কর্মসংস্থান, এরপর অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও ভালো সুযোগের দিকে এগিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা, অধ্যবসায় এবং ইতিবাচক মানসিকতাই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার ভিত্তি তৈরি করে।
সমাজবিজ্ঞানীদের ভাষ্য, জীবদ্দশায় মানুষকে নানা পরিচয়ে মূল্যায়ন করা হলেও মৃত্যুর পর সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একজন মানুষ কেবল একটি স্মৃতিতে পরিণত হন। তাই অন্যের মন্তব্য নয়, সততা, কর্ম এবং মানবিক মূল্যবোধকেই জীবনের মূল মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।