ভালোবাসা কখনও ধর্ম, সমাজ কিংবা পারিবারিক বাধার দেয়াল মানে না—এমনই এক আলোচিত প্রেমকাহিনীর সাক্ষী হলো ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শম্ভুগঞ্জ এলাকা। দীর্ঘ আট বছর ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্ককে পরিণতি দিতে পরিবারের অমত উপেক্ষা করে প্রিয় মানুষের হাত ধরেই নতুন জীবনের পথে পা বাড়ালেন এক তরুণী।
ছদ্মনাম ‘প্রিয়া’ (১৮+) নামে পরিচিত ওই তরুণী শৈশব থেকে বাড়ির পাশের এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। কিন্তু দুই পরিবারের ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক বাস্তবতা তাদের মিলনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অবশেষে গত ১০ জুন, ভালোবাসার টানেই ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পরে তরুণী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তার দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেন বলে জানা যায়।
এদিকে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বেগে ভেঙে পড়েন তার মা-বাবা ও স্বজনরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তারা ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ নবদম্পতিকে খুঁজে বের করে থানায় নিয়ে আসে।
থানায় শুরু হয় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য। মেয়েটির মা-বাবা, ছোট ভাই ও স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। পরিবারের আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই মুহূর্তের আবেগঘন পরিবেশে পুলিশের অনেক সদস্যের চোখও ভিজে ওঠে। এমনকি ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলামও পরিস্থিতিতে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বলে উপস্থিতদের দাবি।
কিন্তু ভালোবাসার মানুষের হাত ছাড়তে রাজি হননি তরুণী। আইনের দৃষ্টিতে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর অধিকার তার ছিল। পুলিশের সামনেই তিনি স্পষ্টভাবে স্বামীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরিবারের অশ্রু, অনুরোধ আর আবেগঘন মুহূর্তের মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে প্রিয় মানুষের হাত শক্ত করে ধরে থানার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন নববধূ।
সেই দৃশ্য যেন একদিকে ভালোবাসার জয়গান, অন্যদিকে একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্নেহ-মমতা হারানোর বেদনার প্রতিচ্ছবি। কেউ দেখেছেন প্রেমের বিজয়, কেউ দেখেছেন বাবা-মায়ের অসহায় কান্না। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই—শম্ভুগঞ্জের এই ঘটনা ভালোবাসা, পরিবার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জটিল সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে অনেককে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—ভালোবাসার ডাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হৃদয়ের টান বড়, নাকি পরিবারের দীর্ঘদিনের স্নেহ-ভালোবাসা? উত্তর হয়তো সবার কাছে এক নয়, কিন্তু এই প্রেমের গল্পটি নিঃসন্দেহে বহু হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে।
তথ্যসূত্র- দৈনিক কাগজের আলো।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।