নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কোনটির কমবে এবং কর ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সবাই। আসন্ন বাজেটে কর কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে কিছু ক্ষেত্রে কর ছাড় দেওয়া হলেও অন্যদিকে কিছু খাতে বাড়তে পারে করের চাপ।
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে করমুক্ত সীমা বাড়লেও মধ্যবিত্তদের জন্য কিছুটা চাপ বাড়তে পারে। কারণ বর্তমান কর কাঠামোর ৫ শতাংশ হারের একটি ধাপ তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, ফলে পরবর্তী ধাপগুলোতে করের বোঝা তুলনামূলক বৃদ্ধি পাবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি আনতে প্রায় ৬০ ধরনের পণ্যে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের চিন্তা করছে সরকার। এতে প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।
অর্ধশতাধিক ওষুধের কাঁচামালের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বাতিলের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতে বিদ্যমান উৎসে কর কমানো হতে পারে। মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের উপকরণে অগ্রিম আয়কর (AIT) কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্যতেল শিল্পকে উৎসাহ দিতে ১০ বছরের কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এছাড়া স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে কিছু কর ছাড়, বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও চার্জিং স্টেশন স্থাপনে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিল্পের কাঁচামাল, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর কমানো হতে পারে। আইসিটি খাত, ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়ও করমুক্ত রাখার ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মোবাইল ফোনের সিমে বিদ্যমান ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে। ভ্যাট ফাঁকি সংক্রান্ত মামলায় ব্যবসায়ীদের আপিলের জন্য জমা দিতে হওয়া অর্থের পরিমাণও কমানো হতে পারে।
অন্যদিকে ১৫০ সিসির বেশি মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি, স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযোজন এবং কিছু বিলাসী পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে কাজুবাদাম, উচ্চমূল্যের মাছ, দেশি-বিদেশি মদ, রড, বিলাসবহুল গাড়ি, আমদানিকৃত প্রসাধনী ও ইলেকট্রনিক পণ্য। স্টুডিওতে ছবি তোলার ক্ষেত্রেও বাড়তি ভ্যাট আরোপ হতে পারে।
ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্কের সীমাও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ৩ লাখ টাকার বেশি আমানতের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হলেও নতুন প্রস্তাবে এই সীমা ৫ লাখ টাকা করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে আসন্ন বাজেটে একদিকে যেমন কিছু খাতে কর ছাড় ও প্রণোদনার মাধ্যমে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য পূরণে বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন কর ও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।