শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
জাতীয়

নীল অর্থনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

চবিতে বাংলাদেশ-চীনের যৌথ উদ্যোগ

দক্ষিণ এশিয়ায় সামুদ্রিক গবেষণার গুরুত্বপূর্ণকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যার কেন্দ্রস্থল হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। চবি ও চীনের যৌথউদ্যোগে চায়না-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রকল্প উদ্‌বোধন হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায়। সেন্টারটির অফিসিয়াল নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’।

সেন্টারটির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে চবি প্রশাসন

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত চায়না-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন শুধু একটি গবেষণা অবকাঠামোই নয়, বরং তা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও নীল অর্থনীতির নতুন যুগের দ্বার উন্মোচন করতে যাচ্ছে। এই স্টেশনের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি ও রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা এতদিন বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই গবেষণাকেন্দ্রের সবচেয়ে বড়ো সম্ভাবনা হলো মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা। সমুদ্রের কোথায় মাছের আধিক্য রয়েছে, কোথায় সামুদ্রিক পরিবেশ মাছের জন্য অনুকূল, তা স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যাবে। ফলে জেলেরা কম সময় ও খরচে বেশি মাছ আহরণ করতে পারবেন এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগের পূর্বাভাস আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে, যা উপকূলীয় লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

সূত্র থেকে আরো জানা যায়, এই স্যাটেলাইট স্টেশন বাংলাদেশের নীল অর্থনীতির বিকাশেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, অফশোর গ্যাসক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক পর্যটন এবং সমুদ্রভিত্তিক শিল্প পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করবে এই কেন্দ্র। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য উন্নত স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও বিগ ডাটা গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ভবিষ্যতে উন্মুক্ত ডাটা পোর্টাল, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সভিত্তিক (এআই) পূর্বাভাস মডেল, সমুদ্রে বয়া স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্তির পরিকল্পনা এই প্রকল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সংক্ষেপে বলা যায়, এই ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বৈজ্ঞানিক বিনিয়োগ, যা গবেষণা, অর্থনীতি, পরিবেশ ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। এবং দেশের মৎস্যজীবীদের কাছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য পৌঁছানোর পরিকল্পনাও আছে, যা তারা ব্যবহার করতে পারবে।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।