কার্ড বিতরণে পক্ষপাতিত্ব দূর করতে ঈশ্বরগঞ্জ এমপির হুঁশিয়ারি।
ঈশ্বরগঞ্জে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্ড বিতরণে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা দলীয় নেতার মাধ্যমে আর উপকারভোগীদের কার্ড বিতরণ করা হবে না। প্রকৃত গরিব, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে নতুন তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “গরিব মানুষ কোনো দলের নয়, তারা প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় নাগরিক। তাই আমি আর কোনো কার্ড দলীয় নেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করব না। অনেকের ধারণা হয়ে গেছে, এগুলো যেন তাদের কোটা বা প্রাপ্য। বিষয়টি আমি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি—দলীয়ভাবে কোনো তালিকা গ্রহণ করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতাদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা পাঠানো হলে কোনো কার্ড দেওয়া হবে না। নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এমপি বলেন, “আমি অত্যন্ত বিব্রত ও হতাশ। এখন থেকে কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা দলীয় নেতা এসব কার্ড বিতরণ করতে পারবেন না। এগুলো জনগণের আমানত এবং তা সরাসরি প্রান্তিক মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে ভিক্ষুক, গরিব, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ব্যক্তিদের তালিকা ফোন নম্বরসহ জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তালিকা তৈরির কাজে সহযোগিতার জন্য প্রতি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে দু’জন করে দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম চেয়েছেন। তিনি জানান, অন্তত ২০০ জন প্রান্তিক মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ১০ তারিখ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পরপরই দুটি ঈদ কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। তবে আগামী ঈদ থেকে নতুনভাবে তালিকা প্রণয়ন ও পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের নির্বাচন করা হবে।
সবশেষে অতীতের অনিয়ম ও ত্রুটির জন্য তিনি জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।