জ্ঞান চর্চা বাড়াতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে চিলমারীতে ১৯৭৮ইং সনে “ চিলমারী সাধারণ পাঠাগার ও ক্লাব” নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মী ও সমাজসেবী যুবকদের উদ্যোগে গড়ে উঠে ছিল | তৎকালীন মহুকুমা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রংপুর জেলা প্রশাসক মাহে আলম ০৪/১০/১৯৭৮ইং সনে পাঠাগারটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন| উক্ত পাঠাগারটিতে স্থানীয় ছাত্র/ছাত্রী ছাড়াও অনেক পাঠকের সমাগমে ভরপুর ছিল| কালবৈশাখির ঝড়ে পুরাতন থানাহাটে অবস্থিত বটতলার নিচে জ্বীর্ণকুটিরের ভূমি অফিসটি বাতাসে উড়ে যায় | জরুরী কাগজ ও ফাইল পত্রগুলোকে উক্ত পাঠাগারে রেখে সেখানে উপজেলা ভূমি অফিসটি চালু করা হয়| এ সময় পাঠাগার ও ক্লাবের বই-পুস্তক , আসবাপত্র সমূহ উপজেলা পরিষদে স্থানান্তর করা হয়| যার কোন অস্থিত্ব পরবর্তীতে না পাওয়া গেলেও ভূমি অফিসটি সেখানে স্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে| ফলে চিলমারীর সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা, জ্ঞানের বিকাশ ও মেধার লালনের সুযোগটিও বন্ধ হয়ে যায়| সে সময় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত শওকত আলী সরকার বীর বিক্রমের মাধ্যমেও সাধারণ পাঠাগার ঘরটি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের নিকট অনেক তদবির করেও কোন লাভ হয়নি। পরবর্তীতে চিলমারী উপজেলা সদরে জ্ঞান চর্চা, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক রীতিনীতি চর্চার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। অবশেষে ২০২২ইং সনে উপজেলা পরিষদের তত্বাবধায়নে একটি পরিত্যক্ত অফিস ভবনের দ্বিতীয় তলায় “ উপজেলা প্রশাসন পাবলিক লাইব্রেরী” নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। উক্ত লাইব্রেরীতে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন উৎস হতে বইয়ের অর্থ যোগান দেওয়া হয় বলে জানা যায়| লাইব্রেরীটির তত্বাবধায়নে সহকারী লাইব্রেরীয়ান পদে মার্স্টাস ডিগ্রীধারী জনৈক সুমিতা রাণী মাষ্টাররোলে কাজ করছেন| লাইব্রেরীটিতে গল্প,উপন্যাস, কবিতার বই, বিজ্ঞান ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থের বই সংগৃহিত রয়েছে| লাইব্রেরীটির অবস্থান পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় হওয়ায় কম বয়সী অতি উৎসাহীত শিক্ষার্থীরা ছাড়া সাধারণ পাঠকদের সেখানে যাতায়াত একেবারেই নেই | তারপরও লাইব্রেরীটি উপজেলা চত্বরের পরিবেশকে রীতিমত জ্ঞান আহরণের উৎস হিসেবে বিকশিত করেছে। অপর দিকে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা গত ২০ নভেম্বর, ২০২৫ইং তারিখে সরকারী খরচে নির্মিত “উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী” এর শুভ উদ্ধোধন করেন। ৫২ লাখ টাকায় সদ্য নির্মিত নতুন পাবলিক লাইব্রেরীটি আজ অবধি তার দুয়ার খুলতে পারেনি| উপজেলা প্রকৌশলী জানান , উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরীর আসবাব-পত্র কেনা হয়েছে | বই-পত্র এলেই লাইব্রেরীটি পাঠকদের জন্য উন্মোক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে বিএনপি, চিলমারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার জানান, উপজেলা প্রশাসন পাবলিক লাইব্রেরী ও নবনির্মিত উপজেলা পাবলীক লাইব্রেরী দুইটি একিভূত হবে কিনা তা নিয়ে আজ অবধি প্রশাসন কোন সিদ্ধানত জানায়নি।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।