কোনো প্রকার পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় অতর্কিত সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। জবাবে ইসরায়েলসহ কাতার, বাহরাইন, সিরিয়া, আমিরাত, সৌদিআরব ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ হামলায় আমিরাত ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরানের অন্তত পাঁচটি শহরে হামলা চালিয়েছে যৌথবাহিনি। তাৎক্ষণিক খবরে বলা হয়েছে, ইরানে অন্তত ১০০ বেসামরিক শিক্ষার্থী এই হামলায় নিহত হয়েছে। সারাদেশে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে তেহেরান ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলেন, “এ হামলা বিশ্বব্যপি ইরানের হাত থেকে আমেরিকার জনগণকে রক্ষা করার প্রয়াস। তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। আপনারা দেখেছেন, কিভাবে তারা আমেরিকার জনগণকে হত্যা করেছে।”
অপর এক প্রশ্নোত্তর পর্বে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সরকারকে নিরস্ত করার শপথ নিয়েছে।”
ইরানের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এ-ই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। যেখানে যেদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, সেখানে হামলা করা হয়েছে এবং এ হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইরানে সারাদেশে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামরিক ঘাঁটিগুলোতে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে অন্যান্য মিত্রদেশের সাথে। ফলে আশা করাই যায় যে, এই যুদ্ধে অন্যান্য দেশের জিড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য ইরানের মিত্রদেশ রাশিয়া ও চিন আগেই ঘোষণা করে রেখেছে, বিনা অপরাধে ইরানে মার্কিন হামলা করা হলে তার মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে।
ফলে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের আভাস তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ইরানের সার্বভৌমত্বে মার্কিন আঘাতের পাল্টা জবাব দিতে ইরান হরমুজ প্রনালী বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাহলে বিশ্বব্যাপি ব্যপক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যার প্রভাব শুধু ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রে নয়, পৃথিবীর সকল দেশকেই পোহাতে হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে ইরান ও কাতারে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশংকায় সময় পার করছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহবান জানানো হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে নগত অর্থ। সর্বক্ষণিক সহায়তায় জন্য চালু করা হয়েছে জরুরি কল সেন্টার।
কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে (যুদ্ধ বা সংকটকালীন) দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। হটলাইন নাম্বারটি হলো +৯৭৪ ৫৫৮১ ১১০৪। এছাড়াও কনস্যুলার সেবার জন্য দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ওয়েবপেজে নজর রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পেজ: Bangladesh Embassy, Qatar
এদিকে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশের সাথে সকল প্রকার বিমানের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচক। ফলে সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরে ওমরা শেষে ফেরার পথে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহমান।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।