প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ
চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষ হচ্ছে লাইভস্টক ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর মেয়াদ। ফলে প্রকল্পটির আওতায় কর্মরত প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। এতে তাঁদের পরিবার-পরিজন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর-এর অধীনে ও বিশ্বব্যাংক-এর অর্থায়নে ২০১৯ সালে এলডিডিপি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের ৬১টি জেলায় মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি), ৯৮০ জন লাইভস্টক ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (এলএফএ), ৪৯০ জন লাইভস্টক এক্সটেনশন অফিসার (এলইও) এবং ড্রাইভারসহ অন্যান্য পদে আরও ১ হাজার ৫০ জন কর্মী। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার জনবল দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির আওতায় কাজ করে আসছেন।
এলডিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ডেইরি ও পোল্ট্রি খামারিদের প্রশিক্ষণ, গবাদিপশুকে টিকা প্রদান, কৃত্রিম প্রজনন সেবা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম বিতরণ, করোনা-কালীন ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রণোদনা প্রদান, দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য ডেইরি হাব স্থাপন এবং খামারিদের দোরগোড়ায় প্রাণিসেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু করা হয়।
এ ছাড়া দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি, খামার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং খামারিদের উদ্বুদ্ধকরণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খামারিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পিজি গ্রুপ গঠন ও সঞ্চয় ব্যবস্থাও চালু করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, এলডিডিপি চালুর পর দেশে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একসময় যে ঘাটতি পূরণে আমদানির প্রয়োজন হতো, বর্তমানে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা-সান্দিকোনা গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ পিজি গ্রুপের সদস্যা সবিনা আক্তার বলেন, “আগে আমরা উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল সম্পর্কে তেমন জানতাম না। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে আমার খামারের অনেক উন্নতি হয়েছে।”
বলাইশিমুল ডেইরি পিজি গ্রুপের সদস্য ও দুগ্ধখামারি আব্দুল আওয়াল বলেন, “এলডিডিপি প্রকল্প আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। প্রশিক্ষণ, ওষুধ, টিকা ও সরঞ্জাম পেয়ে খামারের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। প্রকল্প বন্ধ হলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।”
লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডাররা (এলএসপি) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্পটি বন্ধ হলে তাঁরা মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, প্রকল্পটি চলমান থাকলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও এগিয়ে যাবে। হঠাৎ করে প্রকল্প বন্ধ হলে একদিকে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মী বেকার হবেন, অন্যদিকে প্রান্তিক খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, “এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি না হলে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।”
এলডিডিপি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে একদিকে হাজারো কর্মী বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন, অন্যদিকে প্রান্তিক খামারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।