গৌরনদী উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের বিস্তার নিয়ে আলোচনায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক এলাকায় “হাতে হাতে” মাদক লেনদেন হচ্ছে। বিশেষ করে টরকী, কটকস্থল ও বার্থী এলাকায় সমস্যা বেশি প্রকট বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগঃ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, সন্ধ্যার পর কিছু নির্দিষ্ট স্পটে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ সহজেই এসবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারে অশান্তি, চুরি-ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের টার্গেট করা হচ্ছে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানান, মাদকের প্রভাবে বাজারে ছোটখাটো অপরাধের ঘটনা বেড়েছে।
প্রশাসনের অভিযান, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে;
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময় সময় অভিযান পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সময়ে আটক ও মামলা হয়েছে। তবে বাসিন্দাদের দাবি, অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে আবার একই চিত্র দেখা যায়। অনেকে মনে করেন, মাদকের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
সামাজিক প্রভাবঃ
সামাজিক কর্মীরা বলছেন, মাদকের কারণে পরিবার ভাঙন, শিক্ষাছুট, বেকারত্ব ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। তরুণদের পুনর্বাসন ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে—নিয়মিত ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। অভিভাবক ও কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি। যুবকদের জন্য ক্রীড়া ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ও টেকসই পদক্ষেপ নেবে, যাতে গৌরনদী উপজেলা-র টরকী, কটকস্থল ও বার্থীসহ পুরো এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা যায় এবং একটি নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।